এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বুধবার, ২৯ মার্চ, ২০১৭

"আমি কি ডরাই সখা 'খানকি' গালিরে!!"
___________________________________

ফেইসবুক এবং বাস্তব জীবনে আমি একশ্রেনীর মানুষের সাথে ভালোভাবে কথা বলে দেখেছি, ওদের মতো নোংরা ভাষায় কথা বলে দেখেছি, ইগনোর করে দেখেছি - এবং এত সবকিছুর পর একটা ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছি, আসলে ওরা আমাকে ভয় পায়! ওরা ভয় পায়, কারন ওরা জানে আমি শক্তিমান, দৃড়চেতা। আমাকে সহজে টলানো যায় না।  তারা আমার শক্তিকে ভয় পায় বলেই আমার দিকে ঢিল ছুঁড়ে, কিন্তু ঢিলটা যে আমার গায়েই লাগছে না তা তারা টের পায়না!!


আমি ভেবে দেখলাম, ওরা যখন আমার বিভিন্ন পোষ্টে আমাকে বেশ্যা/মাগি/খানকি বলে গালি দেয় তখন তাদের উদ্দেশ্যটা কী থাকে? তারা কি সত্যিই ভাবে আমি খানকি? না, আসলে আমাকে দমানোর আর সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে মরিয়া হয়ে উঠে তারা আমায় ওইসব উপাধিতে ভূষিত করে!  আমার তাদের জন্য বড় করুনা হয়। করুনা হয় তাদের আমাকে ছোট করতে চাওয়ার/দমিয়ে রাখার নিরলস এবং ব্যাকুল প্রচেষ্টার ব্যর্থতা দেখে!  

আমার রাজনৈতিক এবং নারীঅধিকার নিয়ে লেখা পোষ্টগুলোতে তারা প্রতিক্রিয়াশীল আচরণ করে। তাদের তথাকথিত মতের বিরুদ্ধে গেলেই তারা আমায় বেশ্যা, মাগি তকমা দেয়! হিংসার বিপক্ষে শান্তির কথা বললে তারা ভয় পেয়ে যায়! ধর্মনিরপেক্ষতায় তাদের ভয়! সাম্যের কথা বললে তারা আরো ভয় পায়! তারা প্রাণপনে থামাতে চায় আমায়।তারা খুব বিরক্ত হয় যখন আমি পুরুষতন্ত্রের কাছে মাথা নত করি না। তারা ভয় পায় যখন আমার নিজের অধিকার আমি নিজেই দাবি করি। তারা পৌরুষিক আক্রমণে তেড়ে আসতে আসতে বলে, 'নারীবাদী মানে ভুঁইফোড় চরিত্রহীন ঘর ভাঙ্গানি নারীর দল'। তারা আরো একধাপ এগিয়ে আমাকে বেশ্যা, খানকি তকমা দেন! আসলে, একজন প্রতিবাদী নারীকে দেখে বিহ্বল হয়ে পড়ে তারা। মেয়ে হয়ে হাজার-কোটি বছরের ধারাবাহিকতাকে উপেক্ষা করে মাথা তুলে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়ছে, সে পরিবর্তনের কথা বলছে, সমান অধিকারের কথা বলছে, অনেকক্ষেত্রে সে পুরুষকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে - এতে তারা ভয় পেয়ে যায়! তাই ঐসব তকমা দিয়ে তারা আমাকে দমন করতে চায়, আটকে রাখতে চায়। 

আমার ক্ষমতা আর সাহসকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় তাদের। তাই তারা  অবলীলায় আমাকে বেশ্যা বলে গালি দেয়, কারণ একটি মেয়ের নৈতিক চরিত্রকে  তারা এবং তাদের সমাজ অনেক আগেই ট্যাবু বানিয়ে রেখেছে। একটা মেয়ের চলার পথকে দুর্গম আর কষ্টময় করতে তার চরিত্রের উপর আঘাত হানাই তাদের শেষ এবং মোক্ষম হাতিয়ার।

কিন্তু তারা জানে না, যে মেয়ে একা হাঁটতে জানে, তাদের ছুঁড়ে দেয়া অপমানের ঢিল আর তার গায়ে লাগে না। তার কাছে বদলে গেছে মান-অপমান ভাল-মন্দের সংজ্ঞা।তার সম্মানবোধ যোনির বেড়া ছাড়িয়ে, দেহের সীমানা পেরিয়ে অন্যত্র স্থান পেয়েছে।তাদের বানানো চরিত্রশুদ্ধির বর্ম, অনেক আগেই পায়ের নীচে দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে সে এগিয়ে চলেছে সামনে। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন