এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শনিবার, ৪ মার্চ, ২০১৭

পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারী
------------------------------------------------------------





মেয়েটি দশম শ্রেনীতে পড়তো। না, তার সাজপোশাকে তথাকথিত উগ্রতা ছিল না। বড়লোকি দেমাগ দেখিয়ে কাউকে কখনও ‘উস্কানি’ও দেয়নি। আপনাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বেঁধে দেওয়া ‘শান্ত-ভদ্র’ চলন ছিল তার। কিন্তু তাতে কী? তার সবেচেয় বড় ‘অপরাধ’, সে ছিল মেয়ে। তাকে ‘ভোগ’ করা যায়, ধর্ষণ করা যায়। হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়া যায়। ধর্ষনের পর তার খুন হওয়া রক্তাক্ত দেহ ফেলে রাখা যায়! 

এই সমাজব্যবস্থায় বেশীরভাগ পুরুষের কাছে মেয়েদের শরীর একটি মাংসপিন্ড, সেক্স অবজেক্ট।এবং এই একটি কারনেই একজন পুরুষ ৫ বছরের শিশুকেও ধর্ষণ করতে পারে, কারণ তার বয়স যাই হোক, সে একটি মেয়ে,  তার শরীরে একটি যোনী আছে, জরায়ু আছে। যৌনতার জন্য একজন পুরুষের একটি যোনী হলেই চলে, জরায়ু হলেই চলে। তার বয়স দেখা লাগে না, সম্পর্ক দেখা লাগে না, প্রেম দেখা লাগে না, সময় দেখা লাগে না, সমাজ, বিবেক কিছুই লাগে না।


মেয়ে মানে টিয়া পাখি, ময়না পাখি, মেয়ে একই সঙ্গে ডাইনী এবং দেবী। কুৎসিত পুরুষদের একমাত্র গন্তব্য মেয়েদের অন্তর্বাস আবৃত স্থানসমূহে। এসব অন্তর্ভেদী দৃষ্টির জন্য নারীকে পড়তে হবে বোরকা, পড়তে হবে হিজাব পড়তে হবে পুরুষ কর্তৃক সুপারিশকৃত সকল পোশাক। তবুও সেই অন্তর্ভেদী দৃষ্টি ঠিকই খুঁজে নিবে মেয়েটির গোপনীয় সব অঙ্গ।মেয়েরা ধর্ষিত হবে হিজাবের দেশে, মেয়েরা ধর্ষিত হবে হিজাব না থাকা দেশে, মেয়েরা ধর্ষিত হবে সর্বত্র। তারপর সতীত্বহানির অপরাধে দেওয়া হবে ২৪০ বেত্রাঘাত, সমাজের সম্মান রক্ষার্থে তাকে হত্যা করতে হবে।তার যৌনাঙ্গে রড দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে, পাথর ছুড়ে ছুড়ে হত্যা করতে হবে।

মেয়েদের জন্য এই পৃথিবীতে কোন নিরাপদ স্থান নেই।স্কুল, কলেজ, অফিস, হাসপাতাল, লিফ্ট, আদালত, এমন কি থানা হাজতও মেয়েদের  জন্য নিরাপদ আশ্রয় নয়। আকস্মিক লোকালয়ে চলে আসা একটি হিংস্র পশুও কখনো এতোটা অনিরাপদ নয়, যতোটা এই সমাজব্যবস্থায় মেয়েরা। 

মানুষের সমাজে নারী শূদ্র , পুরুষ ব্রাহ্মণ। লঘু পাপে মেয়েটির মুখে এসিড পড়বে আর গুরু পাপে মেয়েটির যৌনাঙ্গে রড ঢুকিয়ে দেয়া হবে।মেয়েটি ধর্ষণের দৃশ্য ছড়িয়ে দেয়া হবে ইন্টারনেটে, দোকানে দোকানে চড়া দামে বিক্রি হবে। কিনবে সেই পুরুষরাই। ঘরে বসে রগরগে উত্তেজনা অনুভব করতে! নিজেকে পুরুষ প্রমাণের জন্য মেয়েদের সাথে এমন না করলে পুরুষাঙ্গের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় নাকি !? 

আমাদের দেশে শুধু ব্যক্তিই নারীকে ধর্ষণ করে না, সমাজও উঠতে-বসতে করে৷ ‘Indian Army Rape Me' বা পুরুষকে ‘ধর্ষণ করো' বলে নারী কিন্তু আগেই সচেতনতা বাড়ানোর অসহায় অভিযানে নেমে তা আমাদের
জানিয়েছে৷ সবচেয়ে ভয়ঙ্কর , আমাদের দেশে এক দল মানুষ ধর্ষণ করে, আরেক দল মানুষ চুপ থেকে ধর্ষণকারীদেরই সমর্থন যোগায়। ধর্ষণের ঘটনাগুলোতে যখন সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে ওঠে না, একজন ধর্ষণ করে আর অন্যরা যখন নীরব থাকে কিংবা ধর্ষকের পক্ষে যাবতীয় যুক্তি আর সমর্থন নিয়ে দাঁড়িয়ে যায় #not_all_men সাইনবোর্ড নিয়ে,  তখন তাকে সামাজিক ধর্ষণ ছাড়া কী বলা যায়? 

নারী নির্যাতন, যৌন হয়রানি, ধর্ষণ- করে পুরুষরা।তাই এসব বন্ধ করতে হলে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে পুরুষদেরই।সংশোধিত হতে হবে আগে তাদেরকেই।মানুষ হতে হলে ‘মনুষ্যত্ব’কেই ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে হবে, লাম্পট্যকে নয়। এটা মানবতার দায়।আর তা না করলে প্রকাশ্যেই ঘোষণা করুন আজ থেকে: "আমরা পুরুষ, আমরা ধর্ষণ করি" - এবং ধর্ষক হিসেবেই  নিজেদের পরিচয়কে আরো পাকাপোক্ত করুন!!


একটা কথা জানেন তো, আমাদের পিঠে একটা হাড় আছে, যেটাকে আমরা মেরুদণ্ড / স্পাইনাল কর্ড বলি।যেটা ছাড়া মানুষ সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তাই দয়া করে খেয়াল রাখুন এতোটাই না আবার কুঁজো হয়ে যান, যাতে কোমরের নিচ থেকে যে পুরুষত্ব মাপেন আপনারা, সেই কোমর নাড়ানোরও শক্তি আর না থাকে!!!!!!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন