এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শনিবার, ৪ মার্চ, ২০১৭

 পুরুষতান্ত্রিক ধর্মে নারী 
____________________






কদিন আগে আমার মেজদি ফেইসবুকে  একটা পোষ্ট দিয়েছিলো যে -   "ইসলাম ধর্ম একজন পুরুষকে যদি চার বিয়ে করার সম্মতি দেয় তাহলে মহিলাকে চার বিয়ে তো ছাড়ুন দু বিয়ে করার জন্য কেন নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে???"

তো কিছু জানোয়ারের শীৎকার ছাড়া, পোষ্টে আরো যারা কমেন্ট করেছিলেন তাদের বেশীরভাগের মোদ্দা কথাটা হল, যে একটা মেয়ে যদি চার বিয়ে করে তবে তার সন্তানের বাবার পরিচয় কি হবে? তাইজন্য নাকি মেয়েদের চার বিয়ের নিয়ম নেই!! অথচ তারা একবার ও বলছে না যে ছেলেদের চার বিয়ে করাটা কুপ্রথা, এটা লুপ্ত হওয়া প্রয়োজন! তারা বলতে চাইছে, তারা পুরুষ, তাই তাদের ই একমাত্র অধিকার আছে সন্তানকে  জন্মপরিচয় দেওয়ার, একা মা'র সেই অধিকার নেই!! আর নৈতিক দিক থেকে থাকলেও পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কর্তা হয়ে আমরা  সেটা মানবো  কেন!! 

এখন আমার প্রশ্ন হল, প্রথমত, বিয়েটা কি শুধু সেক্স আর সন্তান জন্ম দেওয়ার বৈধ মাধ্যম?? আমি ব্যাক্তিগত ভাবে এটা না মানলেও, আপনাদের কথায় যদি ধরেও নেই যে বিয়েটা তা ই, তাহলে আপনার বিয়ের ছ-মাস, একবছর পর যদি বউ এর প্রতি যৌনচাহিদা কমে যায়, এবং অন্য কচি নারীর প্রতি আকৃষ্ট হন এবং তাকে বিয়ে করেন, তাহলে একজন নারী কেন একই কারনে অন্য পুরুষকে বিয়ে করতে পারবে না? তার ও তো যৌন চাহিদা আছে, আপনাকে তার আর ভালো নাও লাগতে পারে? যেরকম আপনার হয় সেরকম আপনার বউ এর ও হতে পারে ! তাতে আপনার এত ফাটে কেন??  

দ্বিতীয়ত, আজকাল সন্তান মানুষ করতে বাবার প্রয়োজন হয় না, বাবার পরিচয় ছাড়াও অনেক শিশু দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে, লেখাপড়া শিখে নিজের পায়ে দাড়াতে পারে। পশ্চিমা বিশ্বে তার ভুরি ভুরি উদাহরন আছে। এদেশে ও  অনেক উদাহরন আছে। পৌরানিক কাহিনী রামায়নেও আছে। সীতা কিন্তু রামের নাম-পরিচয় ছাড়াই তার দুই পুত্র লব আর কুশকে  মানুষ করেছিলেন। স্বামীর পরিচয় বা সন্তানদের বাবার নাম তার দরকার পড়েনি। স্বামী রামের কোনো ধরনের সাহায্যের ও প্রয়োজন হয়নি তার। অথচ আপনাদের সমাজ কখনো সীতার এই সাহসী মনোবলের কথা বলে না!!  লুকিয়ে রাখে তার নীরব প্রতিবাদের কথা। এবং  সীতার সকল গুনকে গুম করে নারীদের আত্মত্যাগের পাঠ শেখাতে আসে এবং অগ্নিপরীক্ষায় অনুপ্রেরিত করে !! এই সমাজের মেয়েরা কিন্তু বারবার প্রমান করেছে পুরুষ ছাড়াও তারা সন্তান লালন পালনে সক্ষম । সন্তানকে  বড় করে তুলতে, শিক্ষাদীক্ষার ক্ষেত্রে তাদের কোনো পুরুষের সাহায্যের দরকার পড়ে না! অথচ, মা ছাড়া সন্তানকে লালন পালন করা পুরুষের সংখ্যা কিন্তু সে তুলনায় নগন্য! 

আমার প্রচন্ড লজ্জা হয়, এই সমাজকে দেখে প্রচন্ড লজ্জা হয় ! এই শতাব্দীতে এসেও যে সমাজের পুরুষেরা ভাবে একটা শিশু বাবার পরিচয় ছাড়া বড় হতে পারে না! যে পুরুষশাসিত সমাজ বেজন্মা, জারজ এই শব্দগুলোর সৃষ্টি করেছে! নিজেকে সেই সমাজের অংশ ভাবতে আমার সত্যি লজ্জা হয়! এই পুরুষ শাসিত সমাজ ই কিন্তু নিয়ম করেছে বাবা ছাড়া সন্তানের জন্মপরিচয় থাকে না, মায়ের পরিচয়ে সন্তান বড় হতে পারে না!!  জমির মালিক যেহেতু পুরুষেরা, তাই তাদের উত্তরাধিকারী নির্বাচনের এটাই ছিল একমাত্র হাতিয়ার! এবং নারী তার শিকার!  কোন নারী কিন্তু কখনো বলেনি পুরুষ ছাড়া সে সন্তান লালন পালনে অপারগ! 

তাই আপনারা যারা বলছেন নারী চার বিয়ে করতে পারবে না কারন তার সন্তানের জন্মপরিচয় পাওয়া যাবে না, তাদের বলছি, একজন মা , বাবার পরিচয় ছাড়াও নিজের সন্তানকে মানুষ করতে পারে স্বচ্ছ্যন্দে। কিন্তু কখন করতে পারে না জানেন? যখন আপনারা সেই মায়ের উপর সমাজের আপনাদের ই বানানো নিয়ম চাপিয়ে দেন এবং সেই মায়ের সন্তানকে জারজ আখ্যা দেন!! 

আপনারা যদি চার বিয়ে করতে পারেন, একজন নারীর ও সম্পূর্ন অধিকার আছে চার বিয়ে করার এবং একসঙ্গে চার স্বামী রাখার! আপনারা আগে নিজের মুখে বলুন এটা কুপ্রথা, এবং চার বিয়ে করা বন্ধ করুন! তারপর বরং উপদেশ দিতে আসবেন..! শুনলেও শুনতে পারি! নাহলে ঘাটের মড়ার মত এ ঘাটে, ও ঘাটে ভাসতেই থাকবেন!  বেহেস্তে হুর পরীর সাথে সেক্স করার আশায় থাকা হে আম জনতা, নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গী পাল্টান, দেখবেন পৃথিবীটাকেই নতুন লাগছে! 


আজ থেকে প্রত্যেকটা শিশু বেড়ে উঠুক তার মায়ের পরিচয়ে!! এরকম হলেই হয়তো ঐ শিশুটি বড় হয়ে তার মা এবং মা জাতিকে সম্মান করতে শিখবে!! কোনো মেয়েকে  খানকি, মাগী, বেশ্যা, পতিতা এই শব্দ গুলো বলতে তার নিজের মুখে আটকাবে! 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন