এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শনিবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৭


তোমার রসিকতা এবং আমার রাগ, হে আমার পুরুষবন্ধু
_______________________________________________




শুরুতেই একটা গল্প দিয়ে শুরু করি। এক নবাবের সভায় সবচেয়ে ধারালো অস্ত্রের প্রতিযোগীতা চলছে। অনেক লোক প্রতিযোগীতায় নাম লিখিয়েছে। কেউ হাতের তলোয়ার দিয়ে লোহা কাটছে, কেউ বর্শা দিয়ে গাছের গুড়ি এফোড় ওফোড় করে দিচ্ছে। তো এরকম এক ওস্তাদ, তার সামনে এক পালোয়ানকে দাড় করিয়ে তরোয়াল ঘোরালেন, পালোয়ানটিকে তখনও দাড়িয়ে থাকতে দেখে ওস্তাদ বললেন, বেয়াদব, সেলাম করো। পালোয়ানটি যেই ঝুকলো ওমনি তার মাথা খসে পড়ে গেল। নবাব বাহবা দিয়ে ওস্তাদকে পুরস্কার দিতে যাবেন এমন সময় এক রোগা হাড় ঝিরঝিরে লোক ছুটে এলো তার পুরো মুখ ঢাকা বউকে নিয়ে। জাঁহাপনা, সব চাইতে ধারালো অস্ত্র দেখে নিন, বলেই বউয়ের মুখের কাপড় খুলে দিল সে। লম্বা জিভ বের করে দিল বউ। ব্যস পুরস্কার নিয়ে গেল রোগা লোকটাই। মেয়েদের জিভের চাইতে ধারাল অস্ত্র হয় নাকি?

আমাদের সমাজের পুরুষদের অধিকাংশ রসিকতাই নারীকেন্দ্রিক। অথবা এভাবেও বলা যায়, আমাদের সমাজ নারীদের নিয়ে রসিকতা করতে খুব পছন্দ করে। নারীদের হেয় করে, তাদের নিয়ে রঙ্গরস করে আলাপ না করলে আমাদের সমাজের পুরুষদের আড্ডা জমে না। শুধু কি আড্ডা! সোস্যাল মিডিয়ায় ও নারীদের নিয়ে নিম্নমানের রসিকতা রীতিমত ট্রোল করা হয়। এবং ওই ট্রোল পেজ গুলোতে হাজার হাজার লাইক কমেন্ট উপচে পড়ে। 

এই ফেসবুকেই বিভিন্ন পোষ্টে প্রায়শই চোখে পড়ে নারীদের নিয়ে চটুল জোকস্। বউরা কান ঝালাপালা করে সর্বক্ষণ, তাদের কথার খোঁচায় পুরুষের মন নাকি সর্বদা জ্বলেপুড়ে অঙ্গার হয়! অবশ্য অঙ্গার হওয়ার ই তো কথা। নারীর কথায়, প্রতিক্রিয়ায় কান দিতে নারাজ পুরুষদের 'তুমি থামো' বলে ধমক দেওয়াটাই যে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। এটাই যে রীতি। 

সেদিন এক পোষ্টে দেখলাম একজন লিখেছে, "যদি দেখেন বিয়ের রাতে বিনা রক্তপাতে যুদ্ধ হয়ে গেছে, তবে ভাববেন দেশ অনেক আগেই স্বাধীন হয়ে গেছে" - হাসি মস্করার সেই পোষ্ট দেখেও অবাক হইনি। কারন আমাদের এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের পুরুষদের কাছে বিয়ের আগে সেক্স এডভেঞ্চার আর বিয়ের পর ঘরের নিরামিষ রেখে মাঝেমধ্যে বাইরের পোলাও বিরিয়ানি খাওয়া দোষের কিছু নয়। অথচ একই কাজ তার স্ত্রী করলে, তাকে কুলটা, বেশ্যা উপাধিতে ভুষিত করতে পিছপা হয়না সে। আমাদের সমাজের পুরুষের কাছে বিয়ে মানেই ভার্জিন যোনী। অবাক করা বিষয় হলো, এই পুরুষেরাই বিয়ের আগে সেক্সের  অভিজ্ঞতার জন্য চায় ভার্জিন যোনি, বিয়ের জন্যও খুঁজে ভার্জিন যোনি, বিয়ের পর মাঝে মধ্যে  'বিরিয়ানি' খেতেও খুঁজে ভার্জিন যোনী। তা সে নিজে যতই ভার্জিন না হোক! যৌনতার ক্ষেত্রে পুরুষের ধ্যানজ্ঞান ভার্জিন যোনীময়। হাত চালিয়ে বিশেষ অঙ্গে কড় পড়ে যাওয়া পুরুষ বিয়ের আগে বের হয় 'সতী' নারী খুঁজতে!!  

তো যা বলছিলাম, যেকোনো পাবলিক প্লেস, সে হোক ঘরোয়া আড্ডা, বন্ধুদের আড্ডা, ফেইসবুক, হোয়াটসআপ, ইন্টারনেট, রাস্তা, বাস, প্রতিনিয়ত পুরুষরা নারীদের নিয়ে এরকমই নীচুমানের জোকস্ বলে একধরনের সুতীব্র সুখ অনুভব করে। শুধু যে মজা বা তামাশা করার জন্য এসব বলা হয় তা কিন্তু নয়, এসবের মধ্য দিয়ে নারীর প্রতি বিদ্বেষও ফুটে উঠে। এবং পুরুষের এহেন বিকৃত রসবোধে ক্ষেত্রবিশেষে বিব্রত হতে হয় নারীদের ই। কিন্তু অবাক হয়ে লক্ষ্য করি প্রতিবাদ করার পরিবর্তে কিছু সংখ্যক নারীও ওইসব মজায় গা-ভাসান। কারন বুঝি, পুরুষতন্ত্র তাদের মাথায় জন্মের সময় থেকে ঠেসে গুজে দিয়েছে 'ভালো মেয়ের' সংজ্ঞা। 'ভালো মেয়েরা' মুখ বুজে সব সহ্য করে, 'ভালো মেয়েরা' প্রতিবাদ করে না, 'ভালো মেয়েরা' এহেন বিব্রত হওয়াকে খুব সহজে হজম করে ফেলে। অন্যায়কে মেনে নেওয়ার শিল্পটা পুরুষতন্ত্র বেশ ভালো করিয়েই রপ্ত করিয়েছে তাদের।

তাইতো পুরুষের এহেন নোংরা রসবোধের প্রতিবাদে তারা কুন্ঠা বোধ করে। কারন এই সমাজ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে প্রতিবাদী নারী মানে কুলটা, অভদ্র, ঝগড়ুটে। আমাদের সমাজে প্রচলিত ই আছে, "পুরুষ রাগলে হয় বাদশা, আর মেয়েমানুষ রাগলে হয় বেশ্যা"। আর এসব উপাধি থেকে বাঁচার জন্য, নিজেকে তথাকথিত 'ভালো মেয়ে' সাজিয়ে রাখার মরিয়া চেষ্টা করে যায় তারা। কিন্তু আর কত?? 

এই যে আমার বোকসোকা, ভালো মেয়েরা, দিদিরা, বোনেরা, বন্ধুরা, তোমাদের ই বলছি... আর কতো?? শোনো, তোমাদের সম্মান রক্ষায় তোমরা যদি ক্ষেত্রবিশেষে কিছুটা প্রতিবাদী হও, তোমরা কিন্তু মোটেই কুলটা, ঝগড়ুটে হয়ে যাবে না! বরং যারা তোমাদের এইগুলো বলতে আসবে, জেনে রেখো তারা তোমাদের সাহস আর শক্তিকে ভয় পাচ্ছে বলেই মরিয়া হয়ে তোমাদের দমানোর শেষ চেষ্টা করছে ওই উপাধিগুলো দিয়ে। তাই নিজের সম্মান রক্ষার্থে প্রতিবাদ করতে শেখো এহেন নোংরা রসিকতার।

আর আমার পুরুষ বন্ধু, প্রেমিক, দাদা, ভাই, বন্ধুদের বলছি, এবার সময় এসেছে সংযত হওয়ার। নিজেদের এহেন রসবোধকে নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করুন। নিজেদের বিকৃত রসবোধ নিয়ে সোস্যাল মিডিয়া, অথবা অন্যান্য জায়গায় নারীকে অস্বস্তিতে ফেলা বন্ধ করুন। আর না হলে, যেদিন আমরা রসিকতায় নামব, সেদিন পালানোর পথ খুঁজে পাবেন না। তাই সময় থাকতে সংযত হোন!! 


বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৭



এবার চলো মুখোমুখি দাঁড়াই
__________________________





প্রিয়তমেষু,
তুমি যখন খুব ব্যস্ত রামনবমীর মিছিল, হনুমান জয়ন্তী, নবীদিবস, ওয়াজ মেহফিল নিয়ে, ঠিক তখন আমি তোমার পাশেই হেঁটে অফিস থেকে ফিরছি, আমাদের শহরের ব্যস্ত রাস্তার মোড়ে। দেখোনি আমায়? দেখবেই বা কি করে, হাজারের বিপরীতে একা একজন মানুষকে চোখে পড়ার কথা নয়। যেভাবে একদিন তোমার নবী দিবসের উন্মাত্ততা দেখেছিলাম, সেভাবেই তোমার 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনিতে অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখলাম, বিহ্বল হয়ে। এবং ঠিক সেই মুহুর্ত থেকেই প্রতিবারের মতো তুমি প্রিয়তমেষু থেকে আমার প্রতিপক্ষ হয়ে উঠলে।

তোমাকেই লিখছি আজ। হয়তো তুমি আমার প্রেমিক, বন্ধু, সহকর্মী, সহপাঠী, পাশের বাড়ীর কেউ। কিন্তু ইদানীং এইগুলো পরিচয় থেকেও বেশী মুখ্য হয়ে উঠেছে তোমার উগ্র ধর্মীয় পরিচয়। আমি যত মানুষ হিসেবে তোমাকে সম্মান করতে চাই, ভালোবাসতে চাই, তুমি ততোবেশী সাম্প্রদায়িকতা আর ধর্মীয় উন্মাদনার চোরাবালিতে আটকে যেতে থাক। যতবার আমি তোমায় সমতার কথা বলি, ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলি, ততোবার তুমি উগ্র ধর্মান্ধ স্বরূপ নিয়ে তেড়ে আস আমার দিকে।

আজকে সারাদেশ জুড়ে উচ্চবর্ণ - নিম্নবর্ণ, ধনী-গরীবে, ধর্মে-ধর্মে, এতো বৈষম্য, এত ঘৃণা, এত হিংস্রতা, এত নিপীড়ন, নির্যাতন - আমি যখন এসবের প্রতিবাদ করি, তুমি প্রতিক্রিয়াশীল আচরণ করো।যখন বলি রাষ্ট্রের যেরকম নিজস্ব কোনো ধর্মমত থাকবে না, রাষ্ট্র হবে ধর্ম নিরপেক্ষ, রাষ্ট্রনেতাদের ও কোনো ধর্মের প্রতি পক্ষপাতিত্ব থাকবে না; তুমি বিরক্ত হও, রাগ কর। তোমার ঐ উগ্র ধর্মান্ধতার চোখরাঙানিকে উপেক্ষা করলে তুমি আরো বেশী আক্রমনাত্বক হয়ে উঠো। অশ্লীল বাক্যবানে বিদ্ধ করো আমায়, খুনের হুমকি দাও, ধর্ষনের হুমকি দাও। আমার তখন মায়া হয় তোমার জন্য। সমতা, ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি তোমার ভয় দেখে, তোমার জন্য করুণা হয় আমার।

উগ্র ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতার মিথ্যা প্রচারে তুমি একজন সাধারন মানুষকে তার জীবন জীবিকার আসল সমস্যা থেকে দুরে সরিয়ে দিতে চাও উগ্র হিন্দুত্ব আর উগ্র মুসলমানিত্বের জিগির তুলে। তার কানে কানে তুমি বলে দাও, 'গরব সে কহো হাম হিন্দু হ্যায়', 'জেহাদ করো, বিধর্মী মারো'। সাধারন মানুষ যাতে তার সংবিধান স্বীকৃত অধিকারগুলো না চাইতে পারে তারজন্য প্রতিনিয়ত তাদেরকে তুমি উগ্র ধর্মীয় রাজনীতির জালে জড়িয়ে ফেলতে চাও। আমি এবং আমাদেরও তুমি ঐ দলে টানতে চাও। কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও যখন ব্যর্থ হও, তখন তোমার আস্ফালন আরো বেড়ে যায়। তুমি আমাকে, আমাদেরকে সেকু, মাকু, চীনের দালাল এসব হাস্যকর ছেলেমানুষী তকমায় ভুষিত করে দমিয়ে রাখতে চাও। দেশটাকে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি , এবং পাকিস্থানকে নিজেদের দাদুর সম্পত্তি ভেবে, তোমার বিরুদ্ধ মতের লোকদের পাকিস্থান চলে যাওয়ার ফতোয়া দাও। কারন, তুমি আমাকে, আমাদেরকে ভয় পাও। প্রচন্ড ভয় পাও। যদি আমি এবং আমাদের কথায়, একজন সাধারন মানুষও তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠে, তবে তো তোমাদের মিথ্যে ধার্মিক সাজার মুখোশ খুলে যাবে। ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক স্বার্থসিদ্ধির পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

অনেক ছায়াযুদ্ধ হলো তোমার আমার। এবার চলো মুখোমুখি দাঁড়াই। উগ্র ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পে যতদিন তুমি মানুষকে পুড়িয়ে দিতে আসবে, মানুষ হয়েই তা প্রতিহত করবো আমি, আমরা। যত বেশী দমন পীড়ন করবে তুমি, ততোবার তোমাকে মানুষের শক্তি দেখাবো আমরা।

তোমার-আমার সম্পর্ক ভাঙবে, ভাঙুক। সব ভেঙ্গে চুরে ধ্বংস হয়ে নতুন করে গড়ে উঠুক সভ্যতা। যেখানে তুমি সাম্প্রদায়িকতা আর ধর্মীয় উন্মাদনার চোরাবালি চিনতে পারবে, মানুষের সভ্যতা গড়তে শিখবে। সেদিন দেখা হবে আবার।

রবিবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৭


রামনবমী উদযাপন এবং অস্ত্র মিছিল
_________________________________









ধর্মীয় উৎসব ভারতবর্ষে নতুন কিছু নয়৷ কিন্তু এবারে ভারতীয় ক্যালেন্ডারে এমন এক উৎসব সংযোজন হলো যার উদ্যোগ এবং উদ্দেশ্য যথেষ্ট সন্দেহজনক। বিজেপি সরাসরি না থাকলেও তাদের প্রত্যক্ষ মদতে এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ, বজরং দল ও বিশ্ব হিন্দু  পরিষদের উদ্যোগে আসাম সহ সারা দেশ জুড়ে পালিত হলো রামনবমী। না, রামনবমী উৎসব পালন নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই। রামের জন্মতিথিতে তাঁর ভক্তরা উৎসব, পূজো করতেই পারেন। সেটা তাদের ধর্মীয় অধিকার। 

"জয় শ্রী রাম" ধ্বনি দিয়ে রাস্তায় রাস্তায় মিছিল হলো রামভক্ত মানুষের। এই মিছিল বা শোভাযাত্রা নিয়েও আমার কোনো অসুবিধে নেই। আমার অসুবিধে হলো অন্য জায়গায়। বিভিন্ন স্থানে হাতে ভোজালি, তলোয়ার, হাঁসুয়া, টাঙ্গি, কাটারি এবং বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র নিয়ে হয় মিছিল। বাদ যায়নি শিশুরাও। এবারে আমার মনে প্রশ্ন জাগলো, রামের জন্মতিথির সাথে অস্ত্র মিছিলের কি সম্পর্ক?? ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ও জন্মতিথি পালন হয়, কিন্তু সেখানে তো অস্ত্রমিছিল হয় না! তবে রামচন্দ্রের জন্মদিন পালনে অস্ত্রমিছিল কেন?? দুদিন থেকে অনেক পড়াশুনো করেও এর কোনো সদ্উত্তর পাইনি। কারুর জানা থাকলে বলবেন আমায়?? এহেন ধর্ম বিকৃতি কেন, সেটার ও উত্তর জানা থাকলে বলবেন? 

এই যে এত হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ হাতে অস্ত্র নিয়ে মিছিলে হাটলেন, তাদের মনে এই প্রশ্নটুকুও জাগলো না দেখে অবাক হয়েছি। 

এবার, এই ফেসবুকেই দেখলাম অনেকে বলছেন,  "মহরমের মিছিল যদি হতে পারে, তা হলে রামনবমীর মিছিল হলে আপত্তি কোথায়!" তারা কি মহরম আর রামনবমীকে একসাথে গুলিয়ে ফেলছেন? নাকি রামনবমীকে মহরমের সমান বানাতে চাইছেন? এই দুই উৎসব তো পরস্পর বিরোধী। রামনবমী খুশীর উৎসব, রামচন্দ্রের জন্মতিথি, অপরদিকে মহরম শোকের উৎসব! তারা কি মহরমের ইতিহাস জানেন না? 

মহরম ইসলামিক বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র একটি মাস। প্রথা অনুযায়ী অধিকাংশ সিয়া সম্প্রদায়ের মুসলিম এই মাসে ১০ দিনের উপবাস রাখেন। মহরমের দিন, সিয়া শ্রেনির মুসলিমরা কারবালার যুদ্ধে হুসেনের মৃত্যুর শোকপালন করেন ও একটি  শোকমিছিল আয়োজন করেন।

১৪০০ বছর আগে আরব দেশের কারবালা প্রান্তরে হজরত মহম্মদের নাতি ইমাম হোসেন হঠাৎই এক অসম লড়াইয়ের সম্মুখীন হন। মরুপ্রান্তরে  বন্দি  অবস্থায় তৃষ্ণায় কাতর হয়ে বেশ কয়েকজন শিশু ও মহিলাসহ সপরিবারে সপার্ষদে তিনি প্রাণ হারান। সেই দিনটি ছিল হিজরি মহরম মাসের ১০ তারিখ। 

মুসলিম সিয়া সম্প্রদায় প্রতি বছর এই তারিখে মহরম পালনের মধ্যে দিয়ে সেদিনের ওই নির্মম ও হৃদয়বিদারক ঘটনাকে স্মরণ করে। অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান যেমন ঈদ ও ঈদুজ্জোহা -র মতো মহরম কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়। নতুন কাপড় পড়া, খাওয়া-দাওয়া, সমবেত নামাজ পাঠ বা পাড়ায় পাড়ায় বড়দের মালা দেওয়ার মধ্যে দিয়ে এর সমাপ্তি হয় না। অধিকাংশ  ধর্মপ্রাণ মুসলিম নামাজ, কোরান পাঠ, গরীব অসহায়দের দান দক্ষিণার মধ্যে দিয়ে নীরব শ্রদ্ধা পালন করে থাকেন। কিছু সংখ্যক মুসলিম সিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ বানায় তাজিয়া। প্রতি বছর নতুন নতুন রূপে, নতুন আঙ্গিকে, নানান বৈচিত্রে,  জারি লোক-গাথা গান গেয়ে মহরম পালন করে তারা। সঙ্গে চলে তলোয়ার, বল্লমের খেলা (যা আখড়া নামেই পরিচিত)। সঙ্গে চলে "হায় হোসেন, হায় হোসেন" ধ্বনি। এটি একটি বহুপ্রচলিত পুরনো কারবালা যুদ্ধের মহড়া, যা প্রতিবছর মহরমের দিন পুনরাবৃত্ত হয়ে থাকে।

তাহলে, কারবালা যুদ্ধের মহড়ার সঙ্গে রামনবমী-র মতো খুশীর উৎসবে অস্ত্র হাতে মিছিলের সম্পর্ক কোথায়?? কিভাবে?? তবে কি ইতিহাস এবং ধর্ম বিকৃত করে মহরমের সাথে রামনবমী-র কোনো কম্পিটিশন চালানো হচ্ছিল , "দ্যাখ, কে কত অস্ত্র দেখাতে পারে"? সবথেকে বড় প্রশ্ন মুসলিমরা কারবালা যুদ্ধের মহড়া দেওয়ার জন্য অস্ত্রমিছিল করে, রামনবমী তে অস্ত্র নিয়ে কিসের মহড়া দেওয়া হলো?? 

আর যারা বলছেন, "আর পাঁচটা ধর্মীয় উৎসবের মতো যদি রামনবমীও হয়, তাহলে ক্ষতি কী!", তাদের বলি, ক্ষতি কিছুই নেই। কিন্তু সমস্যা হলো ধর্ম বিকৃত করে অস্ত্রের মিছিল নিয়ে। সমস্যা হলো শিশুদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া নিয়ে!  হ্যাঁ, মহরমেও শিশুদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার ঘোর বিরোধী আমি। 

রামনবমীর অনেক মিছিলেরই যাত্রাপথ ছিল মুসলিম-প্রধান এলাকা দিয়ে৷ কাজেই এই উদযাপনের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ কিন্তু থেকেই যায়। 















শুক্রবার, ৩১ মার্চ, ২০১৭

কোন এক গ্রীষ্মে আমরা ঠিক দ্বিগুণ হবো! 





প্রিয় নাম না জানা মেয়েটি, 

তোমাকেই বলছি। হয়তো তুমি আমার সমবয়সী। হয়তো বা আমাদের বয়সের ব্যবধান বিস্তর।তোমার আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা, শিক্ষা হয়তো আলাদা, কিন্তু তুমি যখন রুখে দাড়াও অন্যায়ের প্রতিবাদে, বিনিময়ে তোমায় দেওয়া হয় বেশ্যা উপাধি, তুমি যখন তোমার অধিকার নিয়ে কথা বলো, বিনিময়ে পাও গণধর্ষনের হুমকি ; তুমি যখন দূর্ণীতির বিরুদ্ধে মিছিল করায়, জেল হাজতে তোমার অন্তর্বাস খুলতে বাধ্য করা হয়;  কিন্তু এতকিছুর পরও যখন তোমার সাহসকে ভাঙা যায় না, তুমি হাতের মুঠো আরো শক্ত করে শুন্যে তোলো, তখনই মনে হয় আসলে তোমার আমার বেঁচে থাকায় খুব বিশাল কোনো ব্যবধান নেই l

মেয়ে, তুমি হয়তো জানো, নারীজন্মে জীবনের বেশীরভাগ সময় কোনো না কোনো অজুহাতে বেশ্যা, খানকি, মাগী(আঞ্চলিক ভাষায় আরো কত কি) শুনতেই হয়,  ধর্ষন, গনধর্ষনের হুমকি পেতেই হয়। এই সমাজ, এই রাষ্ট্র   চরমভাবে  শিশ্নপ্রধান। আর এই শিশ্নপ্রধান সমাজে ক্ষমতাধর নারীটিও চরম অসহায়।যদি তুমি ওড়না না পরতে চাও, তুমি বেশ্যা। পুরুষদের মতের বিরুদ্ধে বলেছো, তোমার এত সাহস- তুমি বেশ্যা। তোমাকে সকলের সামনে গনধর্ষনের হুমকি দেওয়া হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছ! সামান্য মেয়েমানুষের এত আস্পর্ধা!! তুমি বেশ্যা। পড়াশুনার চাপে বা চাকরি বা ক্যারিয়ারের জন্য হয়তো সন্তান ধারনে অনীহা, তুমি ফিগার ঠিক রাখতে চাওয়া বেশ্যা। নারীজন্মে সারাজীবন ধরে চলে বেশ্যা সমাচার। 

আসলে এই সমাজ/রাষ্ট্রে, ধর্ষন পুরুষের ক্ষমতার বহি:প্রকাশ। ধর্ষণ হলো পৌরুষের একাধিপত্যের নিশান। তারা পুরুষ, তাদের একখানা লিঙ্গ আছে এবং ঠিক সেকারনেই তারা যখন তখন যে কোনো নারীকে ধর্ষনের হুমকি দিতে পারে, গনধর্ষনের হুমকি দিতে পারে, কুকুর দিয়ে ধর্ষন করানোর হুমকি দিতে পারে, কবর থেকে তুলে ধর্ষন করার কথা বলতে পারে। তোমাকে অবলীলায় বেশ্যা উপাধিতে ভুষিত করতে পারে,  সে ফেইসবুক পোষ্ট হোক অথবা প্রাত্যহিক জীবনে। তাদের কোনো শাস্তি হয় না, কোনো প্রতিবাদ হয়না, আইন, রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের নাগরিক তাদের দেখে মুচকি হাসে। তাদের দেখে নতুন করে জেগে ওঠে আরো কত পটেনশিয়াল ধর্ষক।  তুমি নারী,তুমি একটা মাংস পিন্ড, এবং যেহেতু  তোমার যোনি আছে, তুমি  পাঁচ বছর বয়সের হোও বা পঞ্চাশ বছরের, তোমায় ধর্ষন করা, বা ধর্ষনের হুমকি দেওয়া পুরুষ, পুরুষপ্রধান রাষ্ট্রের মৌলিক অধিকার। 

মেয়ে, তুমি তো জানোই, মৌলবাদের- সে হিন্দু মৌলবাদ হোক বা মুসলিম মৌলবাদ, কোনো পার্থক্য নেই। এই দুই মৌলবাদেরই প্রধান কাজ নারীদের আটকে রাখা। কারন, এই দুই মৌলবাদী শক্তিকেই চালায় পুরুষেরা। এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ধ্বজ্জাধারী পুরুষ পাষণ্ডের কাছে নারী নিছক ‘ সেক্স অবজেক্ট ' ছাড়া আর কিছু নয়। আর কিছু ভাবতে চায় ও না তারা। 

তাই তোমার রাজনৈতিক মতামতের প্রতি, তোমার নিজের অধিকার চাওয়ার প্রতি তারা প্রতিক্রিয়াশীল আচরন করে। তাদের তথাকথিত মতের বিরুদ্ধে গেলেই অক্টোপাসের মতো হাত-পা ছড়িয়ে তারা তোমায় কুৎসিত আক্রমন করে। তারা খুব বিরক্ত হয় যখন তুমি তাদের কাছে মাথা নত করো না। 

তোমার প্রতিবাদ কেন  তাদের শান্তি নষ্ট করে তার কারণ আমি জানি। তুমি যখন তাদের  সহানুভুতি চাও না, ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে তাদের কাছে অধিকার ভিক্ষা করতে  যাও না; (তারা মহান পুরুষ দেখতে চায়, তুমি নাকিকান্না কেঁদে তাদের কাছে বঞ্চনার প্রতিকার চাইবে) তাদের সে ইচ্ছেয় গুড়েবালি দিয়ে তোমার লড়াই যখন তুমি নিজে করো, তারা ক্ষুদ্ধ হয়, রাগ করে।চিৎকার করে তোমায় থামাতে চায়। তারা তোমাকে ভয় পায়। তোমার মাথা না -নুয়ানোর সাহসকে ভয় পায়। যুগযুগ ধরে পুরুষতন্ত্র তাদের পইপই করে শিখিয়েছে, নারীর স্থান পুরুষের পায়ের নীচে। তাই আজ যখন তারা দেখে নারী তাদের বাধা-নিষেধকে তোয়াক্কা না করে মাথা তুলে দাড়াতে চাইছে, তারা ভীষন ভয় পেয়ে যায়।  একজন প্রতিবাদী নারীকে দেখে বিহ্বল হয়ে পড়ে তারা। মেয়ে হয়ে হাজার-কোটি বছরের ধারাবাহিকতাকে উপেক্ষা করে মাথা তুলে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়ছে, সে পরিবর্তনের কথা বলছে, সমান অধিকারের কথা বলছে, অনেকক্ষেত্রে সে পুরুষকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে - এসব তারা মেনে নিতে পারে না। তাদের এতদিনের সিংহাসন চলে যাওয়ার ভয় পায় তারা। তাই ঐসব তকমা দিয়ে, গণধর্ষনের হুমকি দিয়ে তারা তোমায় দমন করতে চায়, আটকে রাখতে চায়। একজন নারীর চলার পথকে দুর্গম আর কষ্টময় করতে তার চরিত্রের উপর আঘাত হানা, তাকে ধর্ষনের হুমকি দেওয়াই তাদের শেষ হাতিয়ার।

তুমি তো জানোই মেয়ে, নারীবাদ মানে মস্তিষ্কে চেপে বসা কোনো ভূতুড়ে খামখেয়াল নয়, নারীবাদ মানে পুরুষবিদ্ধেষী হয়ে ওঠাও নয়। নারীবাদ একটা নিরন্তর লড়াই, যে লড়াই নারী স্বাধীনতা-প্রত্যাশী।চোখের ছানির মতো পুরুষতান্ত্রিকতাও আসলে একপ্রকার সামাজিক ছানি এবং নারীবাদ তার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা একটি রাজনৈতিক ওষুধ। 

তাই আজ খুব জরুরি, পুরুষতন্ত্র নামক ছানিটাকে কাটা যা আদপে ধর্ষণ নামক ক্ষমতাপ্রদর্শনের শেকড় । পুরুষতন্ত্রের প্রমোটররা আমাদের  প্রতিপক্ষ তো বটেই। তাদের সাথে লড়াই আমাদের লিঙ্গের নয়, যোগ্যতার। জন্মসূত্রে পাওয়া এক লিঙ্গের জোরে তারা যতদিন নিজেদের  প্রথম আর আমাদের দ্বিতীয় লিঙ্গ ভাবতে থাকবে, আমরা ততদিন ওই লিঙ্গ বিভেদকে চ্যালেঞ্জ করে  তাদেরকে মানুষ বানানোর লড়াই করে যাবো। তারা  যতদিন পুরুষ হয়ে নারীকে শোষণ করবে,আমরা মানুষ হয়ে তাদের মোকাবেলা করবো। তারা যত নিয়ন্ত্রণ করবে আমাদের, তাদের তত বেশী করে স্বাধীনতা শেখাবো আমরা। যতদিন তারা নারীকে দমন পীড়ন  করবে, ততদিন আমরা তাদের মানুষের শক্তি দেখাবো। যতোবার তারা  নারীকে দমিয়ে রাখতে ধর্ষন, গনধর্ষনের হুমকি দেবে, ততোবার আমরা  মানুষ হয়ে শাবল চালাবো তাদের বুকে ; পুরুষতন্ত্রের বুকে।

তুমি তো জানোই মেয়ে,  আমাদের শুরুটা বেশিদিনের নয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বয়ে আসা সংস্কারকে এক তুড়ি মেরে- তাতে পরিবর্তনের আশা আমরা করিনা । দু’চার বছরের ভেতর যে সবকিছু বদলে যাবে এমন আশাও করি না। কারন পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদি একটা প্রসেস। আমরা  শতাব্দীর হিসাব করে লিখি বা বলি; রাতারাতি কোনকিছু পরিবর্তনের আশায় নয়। তবুও আমাদের  জীবদ্দশায় আমাদের কথা শুনে, লেখা পড়ে  যদি একটা মেয়েও ঘুরে দাঁড়ায়, একটা ছেলেও যদি মেয়েটার হাত ধরে পাশে দাঁড়ায়, তবে তো সেটাই আমাদের প্রাপ্তি বলো! সেটাই তো আমাদের বলা হাজারটা কথার, লেখার, স্বপ্নের পূর্ণতা!

তাই যতই বাধা আসুক মেয়ে, যতই পুরুষতন্ত্রেরা হায়েনা রা আমাদের ছিঁড়ে খেতে আসুক, যত নোংরা মন্তব্য উড়ে আসুক আমাদের দিকে, হার মেনোনা কখনো। বরং আরো জোরে চিৎকার করো, সেই  চিৎকারে যেন পুরুষতান্ত্রিক সমাজের একটা একটা ইট খসে পড়ে। আজকে হয়তো আমরা সংখ্যাই কম, কিন্তু কোন এক গ্রীষ্মে আমরা ঠিক দ্বিগুণ হবো। 

প্রিয় মেয়ে, লড়াইটা ততোদিন চালিয়ে যেতে হবে তো। 


















বুধবার, ২৯ মার্চ, ২০১৭

বৌদ্ধ দর্শন কিভাবে বৌদ্ধ ধর্মে পরিণত হল!
_______________________________________





বৌদ্ধ ধর্মের উৎপত্তি ভারতবর্ষে। কিন্তু কেন নাস্তিক বুদ্ধের কপালে দেওয়া হল ভগবানের টিকা সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন বৌদ্ধ পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন উনার ‘ভারতমে বৌদ্ধ ধরম কা উত্তান ঔর পতন’ নামক বই এ।
রাহুল সাংকৃত্যায়ন মতে ভারতে বৌদ্ধ ধর্মের মূল বিলোপ সাধন হয়েছে চতুর্দশ শতকে, তবে সে কারণটি ছিল বুদ্ধের মৃত্যুর পর থেকে। তাই সময়ের কালক্রমে সিদ্ধার্থ গৌতমের নামের পূর্বে ‘ভগবান’ যোগ হয়ে হয়েছে, ভগবান গৌতম বুদ্ধ। বৌদ্ধ ধর্মের বিকৃত হওয়ার প্রধান কারণ ছিল, তৎকালীন যুগে বুদ্ধের দর্শনে মানুষকে বেশী আকর্ষিত করায়, পার্শ্ববর্তী নানা ধর্মীয় সমাজ বুদ্ধকে তাদের দলে টেনে নিয়ে বিকৃত করার রুপকে শতভাব সার্থকতা দিয়েছে। বুদ্ধের সমস্ত শিক্ষা ছিল মৌখিক, যারা এই
শিক্ষা ধরে রাখতেন তাদেরকে মতিকা-ধর বলা হয়। তিনি বুদ্ধের দর্শনের বিকৃতিতে প্রাধন্য দিয়েছেন হস্তান্তরের ফলে তত্ত্ব বিকৃতির সত্যতাকে। দ্বিতীয় বৌদ্ধ সঙ্গীতিতে ভিক্ষুরা একমত হতে না পেরে মহসঙ্ঘ নাম দিয়ে আরেকটি সম্মেলন হয়েছিল।যা ছিল বুদ্ধ দর্শনের বিলুপ্তির মূল কারণ এবং বৌদ্ধ ধর্মের সূচনা।

কুশান বংশের রাজা কনিস্কের সময় তৈরি হয় বুদ্ধের মূর্তি নির্মাণের কাহিনী। সেই সময় মানবপুত্র বুদ্ধকে বসানো হয় ভগবানের আসনে। বুদ্ধের মূল দর্শনে আনা হয় দেবতা এবং মিথের সমষ্টি। বুদ্ধের দর্শন বিকৃতিতে যোগ হল স্বর্গ নরক, জাতক, বুদ্ধের জন্ম মৃত্যুর নানা কাহিনী নিয়ে হাজারো মিথ। তৎকালীন মানুষ ধ্যান সাধনা পরিত্যাগ করে জামজমক ভাবে বুদ্ধের পুজায় লিপ্ত হলেন। শুরু হল মহাজন এবং তন্ত্রজান বুদ্ধ ধর্মের ধারনি, মঞ্জুশ্রী মূল কল্প, গুহ্য সমাজ, চক্র সংবর, তৎকালীন ব্রত শ্চারন, বলি পূজা, পুরশ্চরন ইত্যাদি তপ-জপ ও তন্ত্র-মন্ত্রের
প্রভাবে বৌদ্ধ ধর্ম আজকের রূপে এসে পৌছাল। যাতে হারিয়েছে গেছে বৌদ্ধ দর্শনের প্রকৃত সত্তা। সেখান থেকে উদ্ভব হয় স্তবিরবাদ এবং মহাসঙ্ঘবাদ।যে কারনে রচিত হয় বুদ্ধের নামে নানা সূত্র এবং পার্থক্য দেখা যায় সূত্র-পিটক এবং বিনয়-পিটকের মাঝে।

অশোকের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রথম শুরু হয় বৌদ্ধ ধর্মের ভারতের বাইরে প্রচার। অশোকের অবদানের ফলে মূলত আজ বৌদ্ধ ধর্ম এত বেশী প্রসার পেয়েছে। আধুনিক ত্রিপিটক সংরক্ষণ হয় শ্রীলংখ্যায় খ্রীষ্টিয় প্রথম শতকে। কিন্তু ততদিনে বৌদ্ধ দর্শনে ভারত থেকে হিন্দুত্বের প্রভাব ঢুকে পরে। যে কারনে বৌদ্ধ দর্শনে হিন্দু ধর্মের এবং স্বর্গ-নরকের বর্ণনা পাওয়া যায়। মৌর্য
সম্রাটদের অতীব ভক্তির কারনে তারা নির্মাণ শুরু করে হাজার হাজার স্তূপ, আর সেখান থেকেই ধারনা লাভ করে আধুনিক তীর্থ যাত্রার। খৃষ্টের জন্মের দুইশ বছর পর মৌর্য শাসনে এলো বিশাল পরিবর্তন , শাসকরা ছিল অব্রাহ্মণ ধর্মের বিদ্বেষী। যা বুদ্ধ দর্শনের বিলুপ্তির পথকে সুগম করেছে। মৌর্য শাসনের পর ব্রাহ্মণদের কর্তৃক গ্রন্থ সূচনা শুরু হয় । সে সময় রচিত হয় মহাভরতের প্রথম সংস্করণ।ব্রাহ্মণবাদের প্রভাবে বৌদ্ধ জনপদে পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় বৌদ্ধরা তাদের মূল জনপদ ছেড়ে স্থানান্থরিত হতে লাগলো। কঠোরভাবে পুরানো রীতি স্থবিরবাদও দেশ, কাল, ব্যক্তিভেদে নানা রূপে আবির্ভূত হতে লাগলো।সর্বাস্তিবাদীরা মাথুরায় স্থানান্তর হয়ে সংস্কৃত ভাষায় ত্রিপিটক লিপিবদ্ধ করেন। ফলে নতুনভাবে সূচিত হল মহাসক্তিক, লোকেত্তরবাদ নামে আরও কয়েকটি নিকায়। স্থবিরবাদের থেকে সর্বাস্তিবার বাদের আবির্ভাব। সর্বাস্তিবাদের
উৎপত্তি যবন রাজাদের কারনে।

কুশান বংশের রাজা কনিস্ক সর্বাস্তিবাদী ভিক্ষুদের নিয়ে একটি মহাসভা করেন। সেই সভায়ও বৌদ্ধ দর্শনে নানা মতবিরোধ দেখা দিলো। খৃষ্টীয় প্রথম শতকে আচার্য নাগার্জুনের আবির্ভাব হয়। তিনি শূন্য বাদের
দর্শন প্রচার করেন। মহাজন এবং শূন্যবাদের দর্শন যোগে তৈরি হয় মহাজান সম্প্রদায় এবং তা অন্তর্ভুক্ত হয় ত্রিপিটকে। ফলে আবারও বিকৃত
হয় বৌদ্ধ দর্শন।চতুর্থ শতকে পেশোয়ারের আচার্য বসুবন্ধু বৈভাষিক মতভেদে নতুন গ্রহন্ত লিখেন যার নাম অভিধর্ম কোষ। তাই চতুর্থ শতকে এসে বৌদ্ধধর্মে বৈভাষিক, সৌত্রান্তিক যোগাছার এবং মাধ্যমিক সম্প্রদায়রূপে রূপান্তরিত হয়। বুদ্ধের অলৌকিক কর্মকাণ্ডে প্রচারে মূল ভূমিকা ছিল মূলত মহাযান পন্থীদের। বোধিস্বত্বের মাহাত্ম্য প্রদর্শনে তারা যোগ করেছিল অবলোকিতেশর, মঞ্জুস্রী, আকাশ মার্গী প্রভৃতি শত শত কল্পনা।

বুদ্ধের মৃত্যুর চারশো বছর পর যখন রাজা কনিস্ক প্রথম বৌদ্ধ মূর্তি নির্মাণ করেন মহাযান ধর্মপন্থীরা তখন শুরু করলেন জাক জমক পূর্ণ বুদ্ধপুজার
আনুষ্ঠানিকতা। দেব দেবীর ন্যায় শুরু হল বুদ্ধ থেকে কামনা পূর্ণ করার পর্ব। চারিদিকে বুদ্ধের মূর্তি এবং বড় বড় বিহার নির্মাণ শুরু হল। এমনকি মহাযান পন্থীরা সুত্র পর্যন্ত বিকৃত করেছিলেন নিজেদের সুবিধার্থে, যার প্রাদুর্ভাব ত্রিপিটকে আছে। বৌদ্ধ নিকায়ের মধ্যে গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রারম্ভিক কাল থেকে হর্ষবর্ধনের সময় মঞ্জুশ্রী মূলকল্প, গুহ্য সমাজ ও চক্র সংবর ইত্যাদি অনেক তন্ত্রের উদ্ভব হয়। এই সময় আবিষ্কার হয় বুদ্ধ পূজার যা আজো চলে আসছে ভারতবর্ষ তথা এই উপমহাদেশে। অষ্টম শতাব্দীতে বুদ্ধের সরল দর্শনের প্রতি বিশ্বাস উঠে যায় বজ্রযানদের তারাও ভিড় জমায় মহাযানপন্থীদের দলে। এই সময় প্রচলন হয় মানুষের মাথার খুলি নিয়ে শ্মশানে ধ্যান সাধনার। সাধারণ মানব বুদ্ধের অলৌকিক ক্ষমতার প্রতি মানুষের বিশ্বাস বাড়তে থাকে। বজ্রযানপন্থীরা মধ্যে একদল মাতাল প্রকাশ্যে স্ত্রী ভোগ এবং মদ পানে লিপ্ত হতেন, তাদের সহযোগিতা করতেন রাজা মহারাজারা। এমনকি এক সময় বলি পূজা পর্যন্ত বুদ্ধ দর্শনে আনার চেষ্টা করা হয়।ভারতীয় জনগন বুদ্ধের দর্শনকে ধর্মে রূপান্তর করে অন্ধবিশ্বাসে লিপ্ত হয়।কিন্তু কালক্রমের তাও বিলুপ্ত হয়ে পরে।
কন্ডোম ও ধর্মীয় ভাবাবেগ
__________________________





                          "আমাকে ধর্ষণ করবে যদ্দিন কবর থেকে তুলে—
                      কন্ডোম পরানো থাকবে, তোমার ওই ধর্মের ত্রিশূলে!’ - 

শ্রীজাতের লেখা এই লাইনদুটো নিয়ে সোস্যাল মিডিয়া, সমাজ, রাজ্য (পশ্চিমবঙ্গ, আসাম) উত্তাল!!  উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের গায়ে আগুন লেগে গেছে!! শ্রীজাত নাকি ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছেন!! কিন্তু একজন মানুষ ও এটা বলছেন না, শ্রীজাতের ঐ লাইন ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, একজন মানুষের (যিনি কিনা ভারতের বৃহত্তম রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী!!) করা মন্তব্যের প্রতিউত্তর!  তার জনসভায় বলা হয়েছিল "মুসলিম মহিলাদের কবর থেকে তুলে এনে ধর্ষন করা হোক"!  

একইভাবে শ্রীজাত মুসলিম মৌলবাদীদের বিরুদ্ধেও লিখেছিলেন তার অন্ধকার কাব্যগুচ্ছ। তখন তো আপনারাই বাহবা দিয়েছিলেন! শেয়ার করে  চারদিকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন! তবে আজ কি হলো!?? 


আজকে যারা শ্রীজাতের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের কথা বলছেন, তাদের তো একবারের জন্যেও যোগী আদিত্যনাথের এই মন্তব্যের বিরোধীতা করতে দেখিনি!! একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর জনসভায় এইধরনের উস্কানিমূলক মন্তব্যে প্রতিবাদ করতে তো কাউকে দেখিনি!! প্রকারান্তে ধর্ষনের সংস্কৃতিকে বাহবা দেওয়ার প্রতিবাদ তো কাউকে করতে দেখিনি!! একজন মহিলা, সে হিন্দু হোক বা মুসলিম, তাকে ধর্ষন করার ফতোয়া দেওয়ার অধিকার পায় কি করে এরা!! এর বিরুদ্ধে কাউকে তো সোচ্চার হতে দেখিনি!! আজকে যারা ধর্মীয় ভাবাবেগ আহত হওয়ার কথা বলছেন, তার একবার 'মুসলিম মহিলার' জায়গায় নিজের মা-বোনকে বসিয়ে দেখুন তো কেমন লাগে!! কোনো ভাবাবেগ আহত হয় কি না!?? 

শুধু কি এই মন্তব্য!! একজন  দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি হয়া সত্ত্বেও একের পর এক বিদ্ধেষপূর্ণ মন্তব্য তিনি করে গেছেন! কৈ, কাউকে তো প্রতিবাদ করতে দেখিনি!! একটা রাজ্য, দেশ মানে শুধু কোনো একটা ধর্মাবলম্বী লোকদের একার সম্পত্তি নয়! দেশ মানে যেখানে সব জনজাতি/সব ধর্মাবলম্বী লোকের বাস! সবার সমঅধিকার! সেখানে কেবলমাত্র একতরফা বিদ্ধেষপূর্ণ মন্তব্য যারা করে, উগ্র ধর্মান্ধতা যারা ছড়াতে চায়, যারা মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করে, সে হিন্দু হোক বা মুসলমান, সেইরকম কোনো  ব্যক্তিকে কোন ভিত্তিতে বাছাই করা হয় একটা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে? 
এই স্বাভাবিক প্রশ্ন করলে, যারা মা-বাবা তুলে গালি দিচ্ছেন তারা একবার নিজের যুক্তিগুলো ভেবে দেখুন তো!! একবার আয়নার নিজের মুখটা দেখে বলুন তো নিজেকে মানুষ লাগছে না হিন্দু/মুসলমান লাগছে?? 

যারা শ্রীজাত কে নিয়ে পাল্টা কবিতা লিখছেন, তার একটা নমুনা  দিচ্ছি..! সব্যসাচী ভট্টাচার্য বলে একজন লিখেছে, 

"কন্ডোম নিয়ে কবিতা লেখো, এ কেমন কবি,
স্ত্রী সাথে করেছো নিশ্চয় কোনোদিন নীলছবি ।
কবি তোমার টাকে কন্ডোম, গোপনাঙ্গে হাত
বনমানুষের নাম দিয়েছে আবার শ্রীজাত ।
বেজাত নামটাই শ্রেয় ছিল, জারজ বলে কথা
কবি সেজে দিয়েছো তাই ধর্মানুভূতিতে ব্যাথা ।
ত্রিশূল নিয়ে লিখছো তাই অক্ষত আছে হাত,
ইসলাম নিয়ে লিখলে বুঝতে পারতে শ্রীজাত ।
তুমি কোন চুলের কবি, ধর্মকে করো অপমান,
কন্ডোম ছাড়া কি আর কিছুর নিতে পারোনা নাম ।
জারজ বলেই এসব বলো, ব্রা প্যান্টিতে আন্দোলন,
শুনেছি নাকি পাকিস্তান গিয়েছে তোমার আপন বোন ।
তোমার বাবা নাকি ধ্বজভঙ্গ, ফলাতে পারেনি তোকে,
তোর মা নাকি ছুটে গেছিল লাহোরের কোন ঝোপে ।
তোর মাথাতে কন্ডোম পরাবো, কুকুর দিয়ে করাবো ধর্ষন,
বাকস্বাধীনতার কবিতা কাকে বলে এবার দেখুন বুদ্ধিজীবিগন" 



এই কু-লেখা দেখা আপনাদের ভাবাবেগ আহত হচ্ছে না!! আপনারা বলুন, যে ধর্মান্ধ গুলো, শুধুমাত্র ধর্মের দোহাই দিয়ে কারো মা-বোন-বউকে কুৎসিত আক্রমন করে, তাদের দেখে আপনাদের ধর্মীয় ভাবাবেগ আহত হয় না?? ধর্মীয় ভাবাবেগের নামে কোনো জাতি-গোষ্ঠীকে আক্রমন করতে যারা তাদের মা-বোন-মেয়ে কে ধর্ষনের কথা বুক ফুলিয়ে বলে, কুকুর দিয়ে ধর্ষন করানোর কথা বলে, তাদের দেখে আপনাদের মনুষ্যত্ব আহত হয় না?? পেটে বর্শা-ত্রিশুন খুচিয়ে অপরিণত ভ্রুণ টেনে এনে যারা পৈচাশিক আনন্দে মেতে ওঠে, তাদের দেখে আপনাদের ধর্মীয় ভাবাবেগ, মনুষ্যত্ব আহত হয় না?? অনার কিলিং দেখে আপনাদের যাবতীয় ভাবাবেগ আহত হয় না?? কন্ডোম শব্দে ভাবাবেগ আহত হয়, ধর্ষনে ভাবাবেগ আহত হয় না?? 

যদি হয়, তবে বলবো আগে এগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিখুন, মানুষে মানুষে হানাহানির প্রতিবাদ করুন, ধর্মীয় উগ্রতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করুন! আর যদি না হয়, তাহলে বলবো আপনাদের আকার আকৃতি মানুষের মতো, কিন্তু ভেতরে ভেতরে আপনারা একটা জানোয়ারের থেকেও অধম! 

















"আমি কি ডরাই সখা 'খানকি' গালিরে!!"
___________________________________

ফেইসবুক এবং বাস্তব জীবনে আমি একশ্রেনীর মানুষের সাথে ভালোভাবে কথা বলে দেখেছি, ওদের মতো নোংরা ভাষায় কথা বলে দেখেছি, ইগনোর করে দেখেছি - এবং এত সবকিছুর পর একটা ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছি, আসলে ওরা আমাকে ভয় পায়! ওরা ভয় পায়, কারন ওরা জানে আমি শক্তিমান, দৃড়চেতা। আমাকে সহজে টলানো যায় না।  তারা আমার শক্তিকে ভয় পায় বলেই আমার দিকে ঢিল ছুঁড়ে, কিন্তু ঢিলটা যে আমার গায়েই লাগছে না তা তারা টের পায়না!!


আমি ভেবে দেখলাম, ওরা যখন আমার বিভিন্ন পোষ্টে আমাকে বেশ্যা/মাগি/খানকি বলে গালি দেয় তখন তাদের উদ্দেশ্যটা কী থাকে? তারা কি সত্যিই ভাবে আমি খানকি? না, আসলে আমাকে দমানোর আর সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে মরিয়া হয়ে উঠে তারা আমায় ওইসব উপাধিতে ভূষিত করে!  আমার তাদের জন্য বড় করুনা হয়। করুনা হয় তাদের আমাকে ছোট করতে চাওয়ার/দমিয়ে রাখার নিরলস এবং ব্যাকুল প্রচেষ্টার ব্যর্থতা দেখে!  

আমার রাজনৈতিক এবং নারীঅধিকার নিয়ে লেখা পোষ্টগুলোতে তারা প্রতিক্রিয়াশীল আচরণ করে। তাদের তথাকথিত মতের বিরুদ্ধে গেলেই তারা আমায় বেশ্যা, মাগি তকমা দেয়! হিংসার বিপক্ষে শান্তির কথা বললে তারা ভয় পেয়ে যায়! ধর্মনিরপেক্ষতায় তাদের ভয়! সাম্যের কথা বললে তারা আরো ভয় পায়! তারা প্রাণপনে থামাতে চায় আমায়।তারা খুব বিরক্ত হয় যখন আমি পুরুষতন্ত্রের কাছে মাথা নত করি না। তারা ভয় পায় যখন আমার নিজের অধিকার আমি নিজেই দাবি করি। তারা পৌরুষিক আক্রমণে তেড়ে আসতে আসতে বলে, 'নারীবাদী মানে ভুঁইফোড় চরিত্রহীন ঘর ভাঙ্গানি নারীর দল'। তারা আরো একধাপ এগিয়ে আমাকে বেশ্যা, খানকি তকমা দেন! আসলে, একজন প্রতিবাদী নারীকে দেখে বিহ্বল হয়ে পড়ে তারা। মেয়ে হয়ে হাজার-কোটি বছরের ধারাবাহিকতাকে উপেক্ষা করে মাথা তুলে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়ছে, সে পরিবর্তনের কথা বলছে, সমান অধিকারের কথা বলছে, অনেকক্ষেত্রে সে পুরুষকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে - এতে তারা ভয় পেয়ে যায়! তাই ঐসব তকমা দিয়ে তারা আমাকে দমন করতে চায়, আটকে রাখতে চায়। 

আমার ক্ষমতা আর সাহসকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় তাদের। তাই তারা  অবলীলায় আমাকে বেশ্যা বলে গালি দেয়, কারণ একটি মেয়ের নৈতিক চরিত্রকে  তারা এবং তাদের সমাজ অনেক আগেই ট্যাবু বানিয়ে রেখেছে। একটা মেয়ের চলার পথকে দুর্গম আর কষ্টময় করতে তার চরিত্রের উপর আঘাত হানাই তাদের শেষ এবং মোক্ষম হাতিয়ার।

কিন্তু তারা জানে না, যে মেয়ে একা হাঁটতে জানে, তাদের ছুঁড়ে দেয়া অপমানের ঢিল আর তার গায়ে লাগে না। তার কাছে বদলে গেছে মান-অপমান ভাল-মন্দের সংজ্ঞা।তার সম্মানবোধ যোনির বেড়া ছাড়িয়ে, দেহের সীমানা পেরিয়ে অন্যত্র স্থান পেয়েছে।তাদের বানানো চরিত্রশুদ্ধির বর্ম, অনেক আগেই পায়ের নীচে দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে সে এগিয়ে চলেছে সামনে।