আমাদের ছেলে সন্তানরা "না" শব্দের মানে জানে না!
_____________________________________________
আমাদের দেশে ধর্ষন একপ্রকার উৎসব। প্রতি মিনিটে একজন নারী এদেশে ধর্ষনের শিকার হচ্ছে। বৈবাহিক ধর্ষনেও আমাদের দেশ প্রথমসারির দিকে। এইসব ধর্ষনের ঘটনার বেশীরভাগের ই কোনো এফ আই আর হয় না। বেশীরভাগের খবরই প্রচারমাধ্যমে আসে না। তারপরও যে ঘটনা গুলো আসে, সেটা নিয়ে কদিন মাতামাতি হয়, মোমবাতি মিছিল হয়, ফেসবুকে ধর্ষকের ফাঁসি নিয়ে তর্ক বিতর্ক হয়। আরেকপক্ষ ধর্ষনের জন্য মেয়েদের পোষাক, চরিত্র দায়ী বলে আকাশ বাতাস আন্দোলিত করেন। তারপর ধীরে ধীরে আবার সব শান্ত হয়ে পড়ে। জনগন আবার কোনো নতুন ইস্যু নিয়ে মাতামাতি শুরু করে।
আবার কদিন পর নতুন কোনো পৈচাশিক ধর্ষনের ঘটনা ঘটে। একপক্ষ মোমবাতি নিয়ে হাটেন, আরেকপক্ষ মেয়েদের পোষাক অব্দি যান। ব্যস এই অব্দিই। এদিকে ধর্ষনের সংখ্যা দিন দিন বাড়তেই থাকে।
আসলে এভাবে মোমবাতি হাতে হেঁটে, বা পোষাকের দোহাই দিয়ে কোনোদিন ধর্ষন কমানো যাবে না। ধর্ষককে ফাঁসি দিয়েও ধর্ষন কমানো যাবে না। ধর্ষকের লিঙ্গ থেতলে দিলেও ধর্ষন কমানো যাবে না। কারন আমাদের গোড়ায় গলদ। ছোট থেকেই আমাদের ছেলে সন্তানের মধ্যে ধর্ষনের মানসিকতা তৈরী করা হয়। এই মানসিকতাটাই মহামারী। স্যুট টাই পরা ভদ্রলোক থেকে শুরু করে অশিক্ষিত রিক্সায়ালার মধ্যেও এই ধর্ষনের মানসিকতা লুকিয়ে থাকে।তাই যতদিন অব্দি না এই মানসিকতার আমূল পরিবর্তন করা হচ্ছে, ততোদিন অব্দি ধর্ষন আর ধর্ষিতার সংখ্যা এভাবেই বেড়ে চলবে।
আমাদের সমাজের মা-বাবা রা মেয়েটি যে কোনো সময় ধর্ষিত হতে পারে এই আশঙ্কা করেন, কিন্তু নিজের ছেলেটাও যে ধর্ষক হয়ে উঠতে পারে, সে ব্যাপারে তাদের কোনো মাথাব্যাথা নেই। মা - বাবারা মেয়েদের সর্বদা না করতে ব্যস্ত। এটা না, ওটা না, হাফ হাতা পোষাক না, রাতবিরেতে একা যাওয়া না, ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু তারা এই 'না' শব্দটার শিক্ষা নিজের ছেলেদের দেন না। আমাদের মা -বাবারা মেয়েদের সর্ব অবস্থায় 'না' করে, কিন্তু মেয়েদেরও যে 'না' বলার অধিকার আছে, মেয়েরা 'না' বললে যে সঙ্গে সঙ্গে থামতে হয়, এই শিক্ষাটা নিজের ছেলে সন্তানকে দেয় না।
তাই সমাজের মা-বাবারা, এবার থেকে মেয়েদের নিয়ে সদা শংকিত না থেকে, নিজের ছেলে সন্তানটিকে নিয়ে ভীত থাকুন। কারন আপনার ছেলে সন্তানটিও কিন্তু যে কোনো সময় ধর্ষকের ভুমিকায় নেমে আসতে পারে। তাই এখন থেকে নিজের ছেলে সন্তানদের আগলে রাখুন ধর্ষনের চিন্তা থেকে, খারাপ বন্ধুদের থেকে। মেয়েরাও তাদের মতো সমান মর্যাদা সম্পন্ন মানুষ এবং মেয়েদের অনুমতি ব্যতীত তাকে ছোঁয়া সবচেয়ে বড় অপরাধ, সবচেয়ে বড় পাপ, এই শিক্ষা নিজের ছেলে সন্তানকে দিন। সাথে এটাও বলুন, নিরাপদ থাকা মানে শুধু নিজে নিরাপদ হওয়া নয়, অন্যকে বিপদে না ফেলার নামও নিরাপদ থাকা।
"‘No’ means No. So no need to explanation or strong causes or more speech for it." - এই কথাটা নিজের ছেলেটিকে মন্ত্রের মতো শেখান। নিজের ছেলেটিকে শেখান বিকৃত যৌনইচ্ছা সংবরণ করাই 'মানুষের' ধর্ম। একটা মেয়ে যখন 'না' বলবে তখন তাকে থেমে যেতে হবে। 'না' মানে নিজের যৌনইচ্ছা সংবরণ করতে হবে। সেই না'টা গার্লফ্রেন্ড বলুক বা কোনো যৌনকর্মী, অফিসের কলিগ বলুক, সহপাঠী বলুক, বা যে কোনো অপরিচিত মেয়ে কিংবা নিজের বউ, তাকে থেমে যেতে হবে। 'না' মানে না। 'না' মানে তাকে থামতে হবে। 'না' বলার পরও যদি সে অগ্রসর হয়, সেই মুহুর্তেই সে 'মানুষ' থেকে জানোয়ারে পরিণত হবে।
এই শিক্ষায় ঘরে ঘরে প্রত্যেক মা-বাবারা তার ছেলেকে মানুষ করে তুলুন, দেখবেন 'ধর্ষন' আমাদের সমাজ, দেশ থেকে নির্মূল হয়ে গেছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন