এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মঙ্গলবার, ২ মে, ২০১৭

পুরুষতন্ত্রের হুজুররা, একটু শুনুন!
___________________________



আপনারা পুরুষ মানুষ, মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া, তাকে প্রকাশ্যে গণশ্লীলতাহানী করে সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া, আপনাদের মৌলিক অধিকার। শুধু মেয়েরা কেন, দেশ, সংবিধান, আইন সবকিছুর গায়ে হাত তুলতে পারেন আপনারা। কখনো ধর্মের নামে, কখনো পরিবারের নামে, কখনো চরিত্রের নামে, কখনো সমাজ সভ্যতার নামে মেয়েদের আপনারা মারতেই আছেন। 

কখনো চড়-থাপ্পড়, কখনো অশ্লীল গালি দিয়ে, কখনো গণধর্ষন করে, কখনো চাপাতি দিয়ে, কখনো ত্রিশুলের আগায় অপরিণত ভ্রুণ দিয়ে, কখনো পাথর মেরে, কখনো গায়ে আগুন লাগিয়ে, কখনো এসিডে ঝলসে দিয়ে, মেয়েদের আপনারা মারতেই আছেন। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান-জৈন-শিখ-ইহুদি, মার খাওয়ার হাত থেকে কোনো মেয়ের রেহাই নেই। 

আপনাদের মেয়েদের মারার ইতিহাস শতাব্দী প্রাচীন। বলা যায় যেদিন থেকে মানব সভ্যতার ইতিহাস শুরু, সেদিন থেকে মেয়েদের মারার ইতিহাস ও শুরু। বাবা হয়ে মারেন, ভাই হয়ে মারেন, স্বামী হয়ে মারেন, প্রেমিক হয়ে মারেন,  ছেলে হয়ে মারেন,  পাড়া-প্রতিবেশী হয়ে মারেন, জেনারেল পাবলিক হয়ে মারেন। বন্ধু হয়ে মারেন, আবার শত্রু হয়েও মারেন। 

আপনারা মুকেশ সিং হয়ে মারেন, আশারাম বাপু হয়ে মারেন, শফি হুজুর হয়ে মারেন। চুলের মুঠি ধরে মারেন, লাঠি দিয়ে মারেন, আবার লিঙ্গ দিয়েও মারেন। পুত্রসন্তান প্রসব না করলেও মারেন, পুত্র সন্তান প্রসব করলেও মারেন।সতী হলেও মারেন, অসতী হলেও মারেন। রাগ হলেও মারেন আবার মিল হলেও মারেন। প্রেমে সায় না দিলেও মারেন, প্রেমে সায় দিলেও মারেন।

ছোটোলোক মেয়েমানুষ আমরা, আমাদের মারা তো আপনাদের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। তাই না? আমাদের আবার কোনো মান-ইজ্জত আছে নাকি আপনাদের কাছে? আমরা আবার আপনাদের সমান মানুষ হলাম কবে? আপনাদের দেশে, আপনাদের সমাজে , মেয়েমানুষ শিরদাড়া সোজা করলেও মার খায়, শিরদাড়া ভেঙ্গে ফেললেও মার খায়। ঘরে থাকলেও মার খায়, রাস্তায় বেরোলেও মার খায়। প্রেম করলেও মার খায়, প্রেম না করলেও মার খায়। তরকারীতে লবন বেশী দিলেও মার খায় আবার কম দিলেও মার খায়। জন্ম থেকে মৃত্যু অব্দি আপনাদের মার খাওয়া ই তো আমাদের নিয়তি। 

আপনারা পুরুষ, আপনারা হুজুর মাইবাপ, আপনারা প্রভু। মেয়েমানুষ আপনাদের ক্রীতদাস। আপনারা যখন খুশী মারবেন, যখন খুশী ভালোবাসবেন। যে মেয়েমানুষ আপনাদের বশ মানে না, তাকে তো মারাই উচিৎ! সেজন্য তাকে ভাতে মারেন, হাতে মারেন, যেভাবে সম্ভব সেভাবে মারেন। আপনারা বেশ্যা পাড়ায় নিজের বিকৃত কামইচ্ছা মিটিয়ে এসে, 'বেশ্যা মেয়েমানুষ' বলে গালি দেবেন, তাকে মারবেন, পিটাবেন, সমাজছাড়া করবেন। জন্ম থেকে মনের সুখে আপনারা শুধু মেরেই যাচ্ছেন, আর মেরেই যাচ্ছেন। 

আপনারা পুরুষতন্ত্রের মাইবাপ। পৃথিবীর সকল ধর্ম আপনাদের মেয়েমানুষকে মারার একছত্র অধিকার দিয়েছে। আপনাদের ধর্ম বলেছে, মেয়েমানুষ ডাইনি, মেয়েমানুষ অশুভ, মেয়েমানুষ শয়তানের চেলা, মেয়েমানুষ আপনাদের পাজরের বাঁকা হাড় থেকে সৃষ্টি, মেয়েমানুষের কারনে স্বর্গ থেকে পতন হয়ে মর্ত্যে স্থান হয়েছে আপনাদের। তো সেই মেয়েমানুষকে দুইবেলা মারা তো আপনাদের নৈতিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্বের সামলাতে আপনাদের অবস্থা বেগতিক। যেখানে মেয়ে দেখছেন শুধু মারছেন, যেরকম মারা যায় সেভাবে মারছেন। আপনারা মারছেন, বাপ সহ চৌদ্দপুরুষ মিলে মারছেন, ভাই-বন্ধু মিলে মারছেন, পাড়া-প্রতিবেশী মিলে মারছেন, রাস্তার লোক মিলে মারছেন, মেরেই যাচ্ছেন। 

কিন্তু হুজুরগণ, এবার যে আপনাদের একটু থামতে হবে! আপনাদের ভাবতে হবে, সব মেয়েরা আপনাদের নিয়ন্ত্রনে আর নেই। আমার মা, তার চৌদ্দপুরুষ, এভাবে পড়ে পড়ে আপনাদের মার খেয়ে গেছেন বলে আমি, আমরাও যে আপনাদের মার মেনে নেব এরকম কিন্তু একেবারেই নয়। আমরা ঘুরে দাড়ানো শিখে গেছি। আমরা জাগছি। একজন একজন করে দিন দিন আমাদের দল কিন্তু ভারী হচ্ছে। আমরা এখন হাজারে আছি, তারপর লক্ষ থেকে কোটিতে ছড়াবো। তাই বলছি কি, আমাদের গায়ে হাত পড়লে আর যে আমরা চুপটি করে থাকবো না। তাই হাতটা এবার গুটোতে শিখুন। না হলে আমরা যেদিন মারতে শুরু করবো সেদিন দৌড়ে পালানোর পথ খুঁজে পাবেন না। 





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন