"আমরা পুরুষ - আমরা ধর্ষণ করি"
_____________________________
_____________________________
#ঘটনা এক : হরিয়ানার রোহতকে ২৩ বছরের এক তরুনীকে সাতজন পুরুষ মিলে গণধর্ষন করে খুন করেছে। যাতে চিহ্নিত না করা যায়, তাই ভারী কিছু দিয়ে ওই তরুণীর মাথা ও মুখ থেঁতলে দেওয়া হয়েছে। এমনকী দেহের উপর দিয়ে গাড়িও চালানো হয়েছে। যৌনাঙ্গে ধারালো অস্ত্র ঢোকানোরও চিহ্ন পেয়েছে পুলিশ। রাস্তায় পড়ে থাকায় কুকুরে খুবলে খেয়েছে তার দেহ।
#ঘটনা দুই : হরিয়ানার রোহতকে নিজ আত্মীয় দ্বারা ধর্ষিত হয়েছে ১০ বছরের এক শিশু। বর্তমানে শিশুটি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্বা। গত কয়েক মাস ধরে নানা অজুহাতে শিশুটিকে ধর্ষন করে ওই আত্মীয়টি। তাকে ভয় দেখিয়ে বলা হয় কাউকে যেন একথা না বলে। শিশুটির অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক।
উপরের দুটো ঘটনায় ই ভিক্টিমের সবচেয়ে বড় ‘অপরাধ’, সে মেয়ে। তাকে ‘ভোগ’ করা যায়, ধর্ষণ করা যায়। হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়া যায়। ধর্ষনের পর তার খুন হওয়া রক্তাক্ত দেহ ফেলে রাখা যায়! অন্তঃসত্বা বানিয়ে দেওয়া যায়। তেইশ বছর বয়স হোক বা দশ বছর - মেয়ে মানেই পুরুষদের কাছে যৌন চাহিদা মেটানোর মেশিন। যৌনতার জন্য একজন পুরুষের একটি যোনী হলেই চলে, জরায়ু হলেই চলে। তার বয়স দেখা লাগে না, সম্পর্ক দেখা লাগে না, ইচ্ছে-অনিচ্ছে দেখা লাগে না, প্রেম দেখা লাগে না, সময় দেখা লাগে না, সমাজ, বিবেক কিছুই লাগে না।
ধর্ষনপ্রিয় পুরুষের একমাত্র গন্তব্য মেয়েদের অন্তর্বাস আবৃত স্থানসমূহে। এসব অন্তর্ভেদী দৃষ্টির জন্য নারীকে পড়তে হবে বোরকা, পড়তে হবে হিজাব পড়তে হবে পুরুষ কর্তৃক সুপারিশকৃত সকল পোশাক। তবুও সেই অন্তর্ভেদী দৃষ্টি ঠিকই খুঁজে নিবে মেয়েটির গোপনীয় সব অঙ্গ।মেয়েদের ধর্ষিত হতে হবে হিজাবের দেশে, মেয়েদের ধর্ষিত হতে হবে হিজাব না থাকা দেশে, মেয়েদের ধর্ষিত হবে সর্বত্র।
এই পৃথিবীতে মেয়েদের কোন নিরাপদ স্থান নেই।স্কুল, কলেজ, অফিস, হাসপাতাল, লিফ্ট, আদালত, এমন নিজের ঘরও মেয়েদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নয়। আকস্মিক লোকালয়ে চলে আসা বনের পশুও কখনো এতোটা অনিরাপদ বোধ করেনা , যতোটা এই সমাজব্যবস্থায় মেয়েরা।
কুকুর নামক প্রজাতিটিরও ভাদ্র মাস ফুরায় একদিন, ফুরায় না কেবল আমাদের সমাজের পুরুষদের!
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো যখনই মেয়েদের প্রতি হওয়া ধর্ষন, নির্যাতনের প্রতিবাদ করা হয়, তখন আরেক দল পুরুষ, পুরুষ নির্যাতনের সাইনবোর্ড নিয়ে চলে আসে! অথবা "সবাই সমান নয়" এই স্লোগান গাইতে থাকে দলবদ্ধ ভাবে। অথবা ধর্ষিতার পেশা, পোষাক,চরিত্রের পোষ্টমোর্টেমে লেগে পড়ে।
ওহে, সাম্যবাদী(!), মানবতাবাদী(!) পুরুষগণ, নারী নির্যাতন, যৌন হয়রানি, ধর্ষণ- করে পুরুষরা।তাই এসব বন্ধ করতে হলে নারীদের নয়, সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে পুরুষদেরই।সংশোধিত করতে হবে তোমাদের নিজেদেরকেই। তোমাদের জন্য 'পুরুষ' শব্দটা আজ একটা গালিতে পরিণত হয়েছে। তাই এই গালি থেকে বাঁচতে হলে তোমরা নিজেরা এখন আন্দোলন কর, ধর্ষনের বিচার চাও, প্রতিবাদ কর। আর তা না করলে প্রকাশ্যেই ঘোষণা করো আজ থেকে: "আমরা পুরুষ, আমরা ধর্ষণ করি" - এবং ধর্ষক হিসেবে নিজেদের পরিচয়কে আরো পাকাপোক্ত করো!!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন