এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বুধবার, ১৭ মে, ২০১৭


আমাদের স্বর্গ ! 
_________________





চারদিকের এই উগ্র ধর্মান্ধতার মধ্যে আমার মাঝে মাঝে চৈতালীর কথা মনে পড়ে যায়। আমার ছোটবেলার স্কুলের প্রিয় বান্ধবী চৈতালী। যে নানাভাবে ছিলো ঠিক আমারই মতো। আমারই মতো উশৃঙ্খল, আমারই মতো যার অঙ্ক করতে ভালো লাগত না। ভালো লাগা মন্দ লাগা দুজনেরই একইরকম। একইরকম চুল। একদিন স্কুলের বড় ক্লাসের দিদিদের মুখে জানলাম আমি আর চৈতালী ভীষনরকম আলাদা। আমরা পানি বলি আর চৈতালীরা জল। আমরা মা কে আম্মা বলি, চৈতালিরা মা। আমাদের ঈদ, চৈতালীদের দূর্গাপূজো। আমাদের নামাজ, চৈতালীদের পূজো।আমরা মৃত্যুর পর কবরে যাই, চৈতালীরা কাঠের আগুনে। আমাদের ছোঁয়া চৈতালীদের পাপ। চৈতালীদের ঠাকুরঘরে আমাদের যেতে নেই। আমাদের ঘরের জল চৈতালীদের খেতে নেই। 

সেদিন আমরা দুজনেরই প্রচুর মনখারাপ হয়ে গেছিলো। আমি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছি চৈতালীকে। সেই চোখ মুখ নাক, সেই ফিতে বাঁধা চুল, সেই অমলিন হাসি। সেও কি এভাবে দেখেছিলো আমাকে? সেও কি খুঁজতে চেয়েছিলো আমাদের মধ্যের অনুপস্থিত সব অসাদৃশ্য? আমি জানি না। তবু ওই বয়সেই আমরা জেনে গেছিলাম আমরা যাচ্ছি ভিন্ন স্বর্গে, অথবা ভিন্ন নরকে। ধর্ম আমাদের মধ্যে অদৃশ্য একটা দেয়াল তুলে দিয়েছিলো ওই বয়সেই। আমরা ক্রমশই ধার্মিক হয়ে উঠি। আমরা ক্রমশ পাপী হয়ে উঠি একে অন্যের কাছে। 

তবু আমরা ভাবতে চাইতাম আমরা একই রকম। আমাদের কোনো ধর্ম নেই। চৈতালী ওর ঠাকুরের প্রসাদ এনে দিত আমাকে, আমি হাত পেতে নিতাম। ঈদে চৈতালী আমাদের ঘরে এসে সেমাই খেত। আমরা একসাথে ঘুরতে যেতাম আবার। এই অসাদৃশ্য নিয়েই আমরা আবার একজোট হয়ে খেলতে যেতাম। বনে বনে জংলী ফুল খুঁজতে যেতাম। আমাদের চারপাশে তখন স্বর্গ নেমে আসত। জন লেননের স্বর্গ। কবীর সুমনের স্বর্গ। আমার আর চৈতালীর স্বর্গ। 










কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন