১৩ই অক্টোবর, আন্তর্জাতিক #No_Bra_Day ( নো ব্রা দিবস)..
____________________________________________________
শিরোনাম দেখে অনেকেই হয়তো নাক কুঁচকে এড়িয়ে যাবেন। বিরক্ত হয়ে হয়তো বলবেন, এই আবার এসেছে পুরুষদের গালিগালাজ করে চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করতে!! আপনাদের আশ্বস্ত করে বলছি এইসব কোনো কিছুই আজকের এই লেখার উদ্দেশ্য নয়!!
শিরোনাম দেখে গাল দেওয়ার পাশাপাশি অনেকের মনেই হয়তো প্রশ্ন জাগছে, #No_Bra_Day জিনিস টা কি? নো ব্রা ডে মানে কি ব্রা খুলে বুক উন্মুক্ত করে রাস্তায় বেরোনো?? অথবা #নো_ব্রা_ডে কি ব্রা না পরে কাটাতে হবে?? আজ্ঞে না। উপরের কোনোটাই নয়। নো ব্রা ডে'তে ব্রা খুলে প্যারেড করার মতো কোনো ব্যাপার নেই। দয়া করে উল্টো বুঝবেন না।
অনেকেই #ব্রেস্ট_ক্যান্সার শব্দটা শুনেছেন। অনেকের মা/দিদি/পরিবারের মহিলা আত্মীয় এই রোগে হয়তো ভুগেছেন। এই ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কিন্তু দিনকে দিন বাড়ছেই। সাধারণত ৫০-৭০ বছর বয়সী মহিলাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার হবার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশী থাকে। অক্টোবর মাস হলো এই #ব্রেস্ট_ক্যান্সার সচেতনার মাস। ১৩ই অক্টোবর হলো #নো_ব্রা_ডে। উদ্দেশ্য হলো, অন্তত এই একটা দিন মেয়েরা যাতে নিজেদের ব্রা খুলে স্তন দুটো পরীক্ষা করে।
প্রত্যেকটা মেয়ে কিশোরীবেলা থেকে যখন স্তনের আকার একটু একটু করে বাড়তে থাকে, তখন সেই বৃদ্ধি হওয়া স্তনকে সুডোল, আটসাট করে তুলতে ব্রা পরতে শুরু করে। অথচ এই ব্রা থেকেই যে নানাবিধ রোগ হতে পারে সে সম্পর্কে বেশীরভাগ মেয়ের কোনো ধারনাই নেই, সচেতনা ও নেই। শহর এবং গ্রামের প্রায় 95% মেয়ে জানে না ব্রা'র কি কি ক্ষতিকারক দিক আছে!!
অথচ প্রত্যেকটা মেয়ের উচিৎ ব্রা’র সঠিক ব্যাবহার জানা। এর ক্ষতিকারক দিক জানা এবং এর ব্যাপারে সতর্ক হওয়া! সারাদিন ব্রা পড়ে থাকা কিংবা রাতের বেলা ব্রা পড়ে থাকা যে অত্যন্ত ক্ষতিকারক, সেটা জানা। আবার অনেকেই এসব অন্তর্বাস প্রতিদিন ধোয় না ! এটা থেকেও যে অনেক রোগ হয়, সেটা জানা!
অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ই মনে করেন ব্রা ব্যবহারের ফলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বাড়ে। ব্রা ব্যবহার বন্ধ করতে পারলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটা কমবে। এই উদ্দেশ্যেই প্রতিবছর #নো_ব্রা_দিবস পালন করা হয়।
এবার অনেক আবালশ্রেণীর মানবতাবাদী সাজা পুরুষ হয়তো এখানে এসে যুক্তি দেবেন , 'এখন যদি পুরুষরা "নো জাঙ্গিয়া দিবস" পালন করে তাহলে কেমন হবে? উত্তর হলো, আন্দোলন/ সচেতনা বৃদ্ধির অভিযান তারাই করে যারা ভিক্টিম হয় । আপনাদের যদি কখনো পেনিসে ক্যান্সার/অথবা অন্য কোনো রোগ হয়, তখন নাহয় নো জাঙ্গিয়া দিবস পালন করবেন!!
এই ফাঁকে একটা গল্প বলি। কয়েক বছর আগে সুইডেনের নারীরা মাতৃত্বকালীন বেতন-ভাতা’র দাবী করেছিলো রাষ্ট্রের কাছে। তারা বলেছিলো গর্ভকালীন সময়ে যদি তাদেরকে বেতন-ভাতা না দেয়া হয়, তাহলে তারা আর “মা” হবে না। তারা মুক্তকন্ঠে বলেছিলো, ‘আমরা সন্তান জন্মদান করি শুধুমাত্র আমাদের প্রয়োজনে নয়, রাষ্ট্রের প্রয়োজনেও সন্তান জন্মদান করি। সুতরাং মাতৃত্বকালীন সময়ে আমাদের দায়িত্ব রাষ্ট্রের নিতে হবে।“ রাষ্ট্র কিন্তু তাদের দাবি মেনে নিয়েছিল।
এইভাবে ব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়ে আন্দোলন, সচেতনা বৃদ্ধির অভিযানগুলোই একদিন আমাদের দেশকে ব্রেস্ট ক্যান্সার মুক্ত করবে। ক্যান্সার প্রতিরোধের লড়াইয়ে জেতার সবচেয়ে ভালো উপায় কি জানেন?? ক্যান্সারের কারণগুলো সম্পর্কে জানা। আর শুধু নিজে জানলেই কিন্তু চলবে না। নিজের জানাগুলো আশেপাশের মানুষদেরও জানাতে হবে। তাই, নারী-পুরুষ যেই হোন না কেন, চেনাপরিচিত সবার সাথে এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলুন। আলোচনা করুন।
অবশ্য যে দেশে এখনো পিরিয়ডকালীন সচেতনাই বৃদ্ধি পায়নি! পিরিয়ড হওয়াকে এখনো অপবিত্র, পাপ মানা হয় ! যে দেশে স্তন এখনো পুরুষের ফ্যান্টাসির বিষয়, যে দেশে পুরুষের ফ্যান্টাসী পুরনের জন্য নারীকে এখনো সুডোল, সুন্দর, সঠিক সাইজের স্তনের জন্য ব্রা ব্যবহার করতে হয়, সে দেশে স্তন ক্যান্সার, স্তনের নানারকম রোগ নিয়ে ভাবার সুযোগ আছে কি নারী বা পুরুষের??
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন