এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৭

প্রসঙ্গ আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস -  কেমন আছে আজকের  কন্যাশিশুরা?
_______________________________________________________


আজ আন্তর্জাতিক #কন্যা_শিশু দিবস। সারা পৃথিবীজুড়ে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর থেকে এ দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
মেয়েদের শিক্ষার অধিকার, পরিপুষ্টি, আইনি সহায়তা ও ন্যায় অধিকার, চিকিৎসা সুবিধা ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষা, মেয়েদের বিরুদ্ধে হিংসা ও বলপূর্বক বাল্যবিবাহ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা পালনের উদ্দেশ্যে এ দিবসের সূচনা করা হয়।

আমাদের দেশে দিবসটি এমন একসময় উদযাপিত হচ্ছে যখন যখন কন্যা ভ্রুণ হত্যা, কন্যাশিশুদের যৌন নিপীড়ন, ধর্ষন, কন্যা শিশুদের প্রতি বৈষম্য, দেশের আনাচে কানাচে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। সমীক্ষা ও ন্যাশনাল ক্রাইম রের্কড ব্যুরো'র রিপোর্ট বলছে- শিশু যৌন নির্যাতন,বাল্যবিবাহের এর হারে আমাদের দেশ পৃথিবীর মধ্যে চতুর্থ। কন্যা ভ্রুণ হত্যায় সম্ভবত ভারত পৃথিবীর মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে।

শুধু ভ্রুণ হত্যাই নয়, বর্তমানে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশী ভাবাচ্ছে, এবং  মারাত্বক হারে বাড়ছে, তা হলো কন্যাশিশুদের উপর যৌন নির্যাতন, কন্যাশিশুদের ধর্ষন!!  চার বছর/পাঁচ বছর/ সাত বছর/বারো বছর/ এমনকি দুবছরের কন্যা শিশুটি অব্দি আপন বাবা, কাকা, মামা দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার, ধর্ষনের শিকার!! মাকে বললে মা উল্টো বলছে চেপে যেতে। এসব কথা কাউকে না বলতে। বড় হয়েও কন্যাটি এই ট্রমা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না বেশীরভাগ ক্ষেত্রে। মানসিকভাবে অসুস্থ, চুপচাপ হয়ে পড়ে। বিয়ের পর স্বামীর সাথে যৌনমিলনেও স্বাভাবিক হতে পারে না। স্বামী সহ সবাই ভাবে মেয়েটি হয়তো মুডি অথবা খেয়ালী অথবা ক্ষেপাটে। কারোর সাথে কথা বলে না ইচ্ছে করে। কিন্তু মেয়েটি মনে মনে জানে সেই ছোটোবেলা থেকে কৈশোর অব্দি নীরবে ঘটে যাওয়া জীবনের পাশবিক ঘটনাগুলি!! 

শুনুন কন্যাশিশুর বাবারা / ভাইরা /কাকারা / মামারা, কন্যাশিশুটি বড় হয়ে যখন বুঝতে শেখে, ভাবতে শেখে, তার বাবা, ভাই, কাকা, মামা ও  অন্যসব যৌনহেনস্থাকারী, ধর্ষক, নির্যাতক, কামুক পুরুষের মতোই একজন পুরুষ, সেদিন তার পৃথিবী উলোটপালট হয়ে যায়। সারাজীবন সে আর কোনো পুরুষকে বিশ্বাস করতে পারে না, ভালোবাসতে পারে না। পুরুষদের দেখলে আতংকিত হয়, মনে মনে ঘেন্না করে! 

সন্তান নিজের শরীরে ধারন করার ক্ষমতা বাবাদের থাকে না, সেটা মায়েদের থাকে। কিন্তু নিজের সন্তান লালন-পালন, তার নিরাপত্তা, তার পর্যাপ্ত বিকাশ নিশ্চিত করা শুধু মায়ের একার দায়িত্ব নয়। দায়িত্বটা বাবার ও। তাই নিজের কন্যাশিশুটিকে ভবিষৎ এ সুখী, প্রানবন্ত, সুস্থ, স্বাভাবিক  দেখতে চাইলে, শিশুটির মা'র সাথে সাথে আপনাকেও এগিয়ে আসতে হবে। কন্যাশিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে শুরু করতে হবে, বলতে হবে, প্রতিরোধ তৈরী করতে হবে।

আর কন্যাশিশুর মা'রা, এখন থেকে নিজের কন্যাসন্তানটি যদি পরিবারের কোনো পুরুষ সদস্যের ছোঁয়ায় বা কোলে উঠতে অসম্মতি প্রকাশ করে, অনীহা প্রকাশ করে, ভয় পায়, কাঁদে, দয়া করে সতর্ক হন। কন্যাশিশুটি যদি আপনাকে বলে তার ভয়, অস্বস্তির কথা, দয়া করে চুপ থাকতে বলবেন না। বরং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।  নিজের শিশুটিকে যে কোনো পুরুষ আত্মীয়ের কোলে উঠতে, আদর করতে, খেলা করতে দেওয়ার আগে নিজে যাচাই করবেন। একা রেখে চলে যাবেন না। যতোদিন আপনার কন্যাটি অপ্রাপ্তবয়স্ক, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে মা-বাবা দুজনকে মিলেই।

আজ আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবসে, শুধু মা'রাই নয়, পৃথিবীর সব বাবারাও এগিয়ে আসুন...আওয়াজ তুলুন, প্রতিরোধ করুন! আপনার কন্যা শিশুটিকে একটা সুস্থ, স্বাভাবিক, স্বপ্নময় পৃথিবী উপহার দিন!! আজ থেকে যেন কোনো কন্যাশিশুকে যৌনহেনস্থার শিকার না হতে হয়, এটাই হোক অঙ্গীকার।





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন