এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শনিবার, ২৬ মে, ২০১৮





চেতনায় নজরুল
________________

অন্নদাশঙ্কর রায় লিখেছিলেন, ‘আর-সব কিছু ভাগ হয়ে গেছে/ভাগ হয়নি কো নজরুল’। 

তাই ই তো। নজরুল এমন একজন মানুষ যাকে ধর্ম কিংবা জাত কিংবা মানচিত্র দিয়ে কখনো ভাগ করা যায়নি। আমাদের কাছে নজরুল যেমন স্মরণীয়, বাংলাদেশেও তো তাই। বরং অনেকক্ষেত্রে আমাদের থেকে অনেকটা বেশী তিনি বাংলাদেশে বরণীয়। বলছি কারন আমাদের দেশে রবি ঠাকুরকে নিয়ে যেরকম হইহুল্লোড়, নজরুলের ক্ষেত্রেসেটা যেন  অনেকটাই ম্রিয়মান। 

এদেশের একটা শ্রেণী তাকে খানিকটা অবহেলা করলেও উপেক্ষা করার স্পর্ধা করতে পারেনি। এর কারন নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবতাবোধ। তাঁকে কোনো বিশেষ ধর্মের আওতায় ফেলার চেষ্ঠায় বারবার হেরে যায় তাই এরা। ধর্ম বর্ণের উর্ধ্বে উঠে নজরুল উচ্চারন করেছিলেন -

 "গাহি সাম্যের গান
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, 
নহে কিছু মহীয়ান।"

একদিকে যেমন তিনি ইসলাম নিয়ে প্রচুর লিখেছেন, তেমনি শ্যামা সঙ্গীতও রচনা করেছেন অনেক। ধর্মের উর্ধ্বে উঠে মানুষের "মানুষ" পরিচয়ই প্রাধান্য পেয়েছে তাঁর কাছে। এর প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই তাঁর চার সন্তানের নামেও। কৃষ্ণ মুহাম্মদ, অরিন্দম খালেদ (বুলবুল), কাজী সব্যসাচী ও কাজী অনিরুদ্ধ। নিজের আত্মজদের নামের মধ্যে দিয়ে হিন্দু-মুসলমান ভেদাভেদ ভুলে দুই ধর্মের মানুষের একাকার হয়ে ওঠার সামান্য হলেও বাস্তবায়ন। কোনো এক ভাষনে নজরুল বলেছিলেন -  

"কেউ বলেন আমার বাণী যবন, কেউ বলেন কাফের। আমি বলি, ও দুটোর কোনোটাই নয়। আমি শুধু হিন্দু মুসলিমকে এক জায়গায় ধরে নিয়ে হ্যান্ডশেক করানোর চেষ্টা করছি, গালাগালিকে গলাগলিতে পরিণত করার চেষ্টা করছি।"

এহেন এক অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্বকে রাজনৈতিক-ধর্মীয়-বর্ণীয়- ইত্যাদি নোংরা এজেন্ডা দেখিয়ে অবহেলা করে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে ভারতীয় বাঙ্গালী সমাজ, কিন্তু তাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করার স্পর্ধা তাদের আজকের সময়েও নেই। সারা জীবন তিনি সংগ্রাম করেছেন শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে। নির্ভীকচিত্তে গেয়েছেন মানবতার জয়গান। দারিদ্র্যের চুড়ান্ত কশাঘাত সহ্য করেছেন, ভোগ করেছেন নির্যাতন-নিপীড়ন; কিন্তু ব্যক্তিগত লোভ-লাভ-খ্যাতির মোহের কাছে কখনো আত্ম-বিক্রি করেনি। ধর্মান্ধ মুসলামানরা একদিকে ফতোয়া দিয়েছে কাফের বলে। অন্যদিকে  ধর্মান্ধ হিন্দুরা খেতাব দিয়েছে "পাতি নেড়ে"। তাতেও দমেননি নজরুল; সবার উপর মানুষ সত্য এই মর্মবাণী তাঁর কণ্ঠে ভাস্বর হয়েছে বারবার। তিনি  মানুষকে জাগিয়েছেন অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে, শোষণের শৃঙ্খল ভাঙার আন্দোলনে। আর এখানেই তিনি সমকালের দাবি মিটিয়েও চিরকালীন।

নজরুলের সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয়েছিল ঘরের দেয়ালে টাঙানো একটা ছবি দেখে। ঘাড় অব্দি লম্বা চুল নিয়ে একজন মানুষ বিষন্ন চোখে তাকিয়ে আছেন ঈশান কোনের দিকে। মা না বাপী (ঠিক মনে নেই এইমূহূর্তে) কাকে যেন জিজ্ঞেস করায় বলেছিলেন ইনি নজরুল ইসলাম। ক্লাস টু তে উঠে আরেকটু পরিচয় তাঁর সাথে। রঙচঙে একটা বই হাতে বিছানায় শুয়ে শুয়ে পড়ছিলাম - 

"ভোর হলো দোর খোল
খুকুমনি ওঠে রে,
ঐ ডাকে জুঁই-শাখে
ফুল-খুকি ছোট রে।"

তারপর থেকে ক্লাস ফাইভ সিক্স অব্দি কেউ যদি জিজ্ঞেস করতো আমার প্রিয় কবিতা কোনটি, আমি চোখ গোলগোল করে "প্রভাতী" বলেই তৎক্ষণাৎ কবিতাটা বলতে শুরু করে দিতাম। "লিচুচোর" যখন পড়লাম তখন সেটা প্রিয় হয়ে গেল....

"যাবো ফের? কান মলি ভাই
চুরিতে আর যদি যাই,
তবে মোর নামই মিছা।
কুকুরের চামড়া খিঁচা
সে কি ভাই যায়রে ভুলা-
মালীর ওই পিটনী গুলা,
কি বলিস? ফের হপ্তা?
তওবা, নাক খপ্তা।" - লাইনগুলো পড়তে পড়তে আমি তখন সেই ডানপিটে ছেলের শাস্তির বহর শুনে হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছি..! তারপর একে একে "খুকি ও কাঠবেড়ালী",  ‘ঘুমপাড়ানী গান’, ‘পুতুলের বিয়ে', 'চড়ুই পাখির ছানা' সহ অসংখ্য কবিতা প্রিয় হয়ে উঠলো। স্কুলে পড়া না শিখে যাওয়ায় দিদিমনির গালি খেয়ে বাড়ী ফিরতে বিড়বিড় করছি নজরুলের লাইন -

 "ঝাঁকড়া চুলো তালগাছ, তুই দাঁড়িয়ে কেন ভাই?
আমার মতন পড়া কি তোর মুখস্থ হয় নাই?"

ক্লাস নাইনে উঠে পড়লাম নজরুলের 'বিদ্রোহী' কবিতা। 'অগ্নিবীনার' ছোট ফন্টে ছাপানো আট পৃষ্ঠার কবিতা - 

"আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দেবো পদ-চিহ্ন!
আমি খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন।
আমি চির-বিদ্রোহী-বীর-
আমি বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির উন্নত শির!" - লাইনগুলো পড়তে পড়তে রক্তচাপ বেড়ে যেত আমার। বুকের মধ্যে অদ্ভুত এক জোর আছড়ে পড়তো..! নজরুলের সাথে প্রেমের শুরু তখন থেকেই। স্কুল থেকে ফিরে খেয়েদেয়েই "অগ্নিবীনা" খুলে বসতাম। এবং কদিন পর দেখলাম "অগ্নিবীনার" বেশীরভাগ কবিতাই আমার মুখস্থ। 

'অগ্নিবীনা' পড়ে যত না তাঁর প্রেমে পড়েছিলাম, তারচেয়ে দ্বিগুন প্রেমে পড়েছিলাম "সাম্যবাদী"র 'মানুষ' পড়ে । -

"কোথা চেঙ্গিস, গজনী-মামুদ, কোথায় কালাপাহাড়?
ভেঙ্গে ফেল ঐ ভজনালয়ের যত তালা-দেওয়া-দ্বার!"

এই দুই লাইনে কি ছিলো তখন বুঝতাম না, কিন্তু  এটুকু বলতে পারি এই দুটো লাইন থেকেই আমার যাবতীয় চিন্তার সুত্রপাত। 

নজরুল ছিলেন মনেপ্রাণে বিদ্রোহী। তাঁর ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতায় যে তীব্র প্রতিবাদের জোয়ার উঠেছিল, তা থামাতে ইংরেজ সরকার তাঁকে জেলে পুরেছিল। নজরুলের আগেও কিছু বাঙ্গালি কবির ভাগ্যে রাজরোষ জুটেছিল, তবে তাঁর মত এত তীব্রভাবে কাউকে আক্রমণ করা হয়নি।  ‘অগ্নিবীণা’ প্রকাশের কিছুদিন পরেই তা বাজেয়াপ্ত করেছিল ইংরেজ সরকার। ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ ব্যান করে।

জেলে বন্দী অবস্থায় ও নজরুল তাঁর প্রতিবাদী সত্ত্বাকে বিসর্জন দেননি। জেলখানায় কারাবন্দীদের সঙ্গে নির্যাতনমূলক আচরণ, বৈষম্য ও রাজবন্দীর প্রাপ্য মর্যাদা না দেয়ায় প্রতিবাদে তিনি অনশন শুরু করেন। সারা ভারতবর্ষে তুমুল আলোড়ন তুলে ঘটনাটি। এ সময়ই রবিঠাকুর তাঁর ‘বসন্ত’ গ্রন্থ নজরুলকে উত্সর্গ করে বলেছিলেন, -

 ‘জাতির জীবনে বসন্ত এনেছে নজরুল তাই আমার সদ্য প্রকাশিত গ্রন্থখানি ওকেই উতসর্গ করছি’। 

সম্ভবত এই সময়ই রবি ঠাকুর নজরুলকে অনুরোধ করে বলেছিলেন, ‘সৈনিক অনেক মিলবে, কিন্তু যুদ্ধে প্রেরণা জাগাবার কবিও তো চাই’।

নজরুল ছিলেন দ্রোহ ও প্রেমের কবি। তাঁর কবিতায়, গানে বিদ্রোহ ও প্রেমের দ্বৈত ছবি একইসঙ্গে ধরা দিয়েছে। বিদ্রোহের আগুনে পুড়লেও শাশ্বত প্রেমের আহ্বানকে উপেক্ষা করেননি কখনোই। একদিকে যুদ্ধজাহাজে যাত্রা অপরদিকে ভেলা ভাসিয়েছেন প্রেমের সাগরেও। আর সেজন্যই "বিদ্রোহী প্রেমিক" শব্দবন্ধটি নজরুলের ক্ষেত্রে শতভাগ সত্য। 

একদিকে তাঁর বিদ্রোহী সত্ত্বা ঝঙ্কার তুলছে -

"মহা প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন,
আমি ধ্বংস
আমি ভেঙ্গে করি সব চুরমার।"

অন্যদিকে তাঁর প্রেমিক সত্ত্বা বলছে - 

"মোর প্রিয়া হবে এসো রাণী
দেব খোঁপায় তারার ফুল।।"

একইসঙ্গে দ্রোহ ও প্রেমকে ধারণ করে এমন স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ শুধুমাত্র  নজরুলের পক্ষেই সম্ভব।

রবীন্দ্র সঙ্গীত আমার প্রতি দিনের সঙ্গী। কিন্তু নজরুলের গানের যে শব্দ ঝংকার আছে, তা রবীন্দ্রনাথের গানে পাইনি। রবি ঠাকুরের গান হৃদয়ে গিয়ে লাগে, আর দুখু মিয়ার গানের প্রতিটি শব্দ একদম মস্তিষ্কের ভিতরে গিয়ে লাগে। - 

“শাওন রাতে যদি স্মরণে আসে মোরে বাহিরে ঝড় বহে নয়নে বারি ঝরে” 

অথবা 

"আধো আধো বোল লাজে বাধো বাধো বোল ব'লো কানে কানে যে কথাটি আধো রাতে মনে জাগায় দোল ব'লো কানে কানে"

 "ভুলি কেমনে আজো যে মনে বেদনা-সনে রহিল আঁকা
 আজো সজনী দিন রজনী সে বিনে গণি তেমনি ফাঁকা"

নজরুলের এইসব গানগুলি আমাকে ভাবায়। তাঁর দ্রোহী স্বত্ত্বার সাথে তাঁর এই মহান প্রেমিক হৃদয়ের সহাবস্থান - ভাববার বিষয় বৈকি। 

তাঁর আরেকটা গান - 

 “আমি চিরতরে চলে যাবো 
তবু আমারে দেবো না ভুলিতে
আমি বাতাস হইয়া জড়াইবো কেশ বেণী 
যাবে যবে খুলিতে 
তবু আমারে দেবো না ভুলিতে” - 

শুধু দ্রোহ নয় প্রতিবাদ নয় বরং জীবনের মৌলিক ও নান্দনিক অনুভুতিগুলোর সংমিশ্রনে নজরুল যে কতটা অনিবার্য তা তাঁর এইসব হৃদয়স্পর্শী গানগুলো শুনলে কিছুটা হলেও বোঝা যায়। আর মানবিক অনুভুতিগুলোকে যাঁরা এমনতর ভাষাময় করে তুলতে পারেন তাঁদেরকে কি ভোলা যায়? … যায় না। আর তাই নজরুলকেও ভোলা সম্ভব নয়। আগামী কয়েক প্রজন্ম, কয়েক দশক অব্দি, তাঁকে ছাড়া বাঙালির চলবে না। চলা সম্ভব নয়। 

প্রিয় কবি, আপনার কাছে একটা বিষয়ে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। মাধ্যমিক অব্দি  যখন ই পরীক্ষায় রচনা লিখতে হত 'আমার প্রিয় কবি', আমি কখনই আপনার নাম লিখতে পারিনি। লিখেছি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আমার ক্লাসের সবাই "রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর" লিখতো বলেই হয়তো। অথবা প্রাইভেট স্যার "রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের" রচনাতেই জোর দিতেন বলেই হয়তো! কিন্তু মাধ্যমিকের খাতায় আমি লিখতে পারিনি শুধু রবি ঠাকুর নন, আপনিও  আমার সবচেয়ে প্রিয় কবিদের একজন। 

শুভ জন্মদিন। শুভ জন্মদিন দুখু মিয়া।

শুক্রবার, ২৫ মে, ২০১৮


ধর্ষণ
*********

‘ধর্ষণ’ - নারীর ওপর পুরুষের বলপ্রয়োগের চুড়ান্ত রূপ। একজন মানুষকে কীটপতঙ্গেরও  মর্যাদা না দেবার বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে ধর্ষণ। তার ইচ্ছে অনিচ্ছের তোয়াক্কা না করে তার উপর নিজের পৌরুষিক ক্ষমতা দেখানোর বিকৃত রূপ হচ্ছে ধর্ষন। 

ধর্ষন বর্তমান সময়েই যে শুধু হচ্ছে তা কিন্তু নয়। প্রাচীন কাল থেকেই তা চলে আসছে, সে গ্রীক পুরাণ ই হোক বা উপাখ্যান , দেবতা হোক বা নবী। মানব সভ্যতার ইতিহাস ধর্ষণের ইতিহাস লিখে রাখার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেনি। বরং বিভিন্ন প্রাচীন উপাখ্যানে ধর্ষণকে অনেকটা ধর্ম এবং দর্শনের মোড়কে দেখানো হয়েছে। গ্রীক পুরাণ জুড়ে দেখা যায় নারীর শরীর পুরুষের কাম প্রশমিত করার বস্তু। তাকে আক্রমন করা যায়, লুঠ করা যায়, যদি না তার আক্রমনকারীকে প্রতিহত করার কোনো চরম উপায় না থাকে। সেই উপায়টি কি? উপায়টি হচ্ছে নারীর স্বেচ্ছা মৃত্যুবরণ। মৃত্যুই বাঁচাতে পারে নারীর সম্ভ্রম!! এইকথাটি যে শুধু গ্রীক পুরাণেই সীমাবদ্ধ -তা তো নয়! আমরা এই প্রাচীন ভারতবর্ষেও দেখেছি "জৌহর"। আলাউদ্দিন খিলজীর কামনার হাত থেকে বাঁচতে পদ্মাবতী তার সহচরীদের নিয়ে স্বেচ্ছামৃত্যু বরণ করেছিলেন। এবং ভারতীয় সমাজে তা নারীর সতিত্বের বিজয়গাঁথা হিসেবে আজোও পালিত হয়ে আসছে! আমাদের ইতিহাসটার  দিকে একবার তাকান - স্বামীর অপমান হলে রাজসভায় প্রাণ দেওয়ার নাম সতীত্ব। স্বামী মরলে তার সাথে সহমরণে যাওয়ার নাম সতীত্ব। কি মর্মান্তিক! শুধু যে প্রাচীন উপাখ্যান-তাও তো নয়! আমাদের সিনেমাগুলোতেও কি দেখছি আমরা? নায়িকা ভিলেনের লালসার শিকার হয়ে নিজেকে বাঁচাতে বুকে ছুরি তুলে বলছেন "জান দেব, তবু ইজ্জত দেব না"! মানে ঘরে ঘরে আমাদের মেয়ে এবং ছেলেদের ও বুঝিয়ে তোলা হচ্ছে- নারীর প্রাণের মূল্যের চেয়েও ইজ্জতের মূল্য বেশী! নারীর শরীর শেষ মানে নারীর জীবন শেষ! 

যাইহোক, পৌরানিক ধর্ষনের ব্যাখ্যা যাই হোক না কেন, তা প্রমাণ করে ধর্ষণের ইতিহাস মানব সৃষ্টির ইতিহাসের সমসাময়িক। ব্রাউনমিলার বলেছিলেন, " শুরুতে পুরুষ ছিলো প্রাকৃতিক লুন্ঠনকারী আর নারী ছিলো প্রাকৃতিক শিকার"। 

পৃথিবীতে নারী জন্মের শুরু থেকেই এই অমানবিক আক্রমণ/হিংসাটি বা হিংসার সম্ভাবনাটি প্রত্যেক নারী শিশু অবস্থা থেকে প্রৌড় পর্যন্ত বয়ে বেড়ান। নিজের বাড়ী থেকে শুরু করে স্কুল/লিফ্ট/বাজার/ অফিস/থানা - সর্বত্র, এর কোনো নির্দিষ্ট স্থান, সমাজ, দেশ নেই। ভারতবর্ষে এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে একজন নারী ধর্ষণের ভয় থেকে মুক্ত। ধর্ষণ সবচেয়ে বিকশিত এক সামাজিক কর্মকান্ড এই দেশে, সারা পৃথিবীতে যার কোনো তুলনা মেলে না! এখানে একক ধর্ষণ হয়, দলবদ্ধ ধর্ষণ হয়, এবং ধর্ষণের পর খুব ঠান্ডা মাথায়, সূচারুভাবে খুন করা হয়। এখানে বাবা ধর্ষণ করে মেয়েকে, শ্বশুর ধর্ষণ করে বৌমাকে, ছাত্র ধর্ষণ করে শিক্ষিকাকে, শিক্ষক ধর্ষণ করে ছাত্রীকে, দেবর ধর্ষণ করে বৌদিকে, পুলিশ ইন্টারোগেশনের নামে ধর্ষণ করে লক আপে ঢুকিয়ে, আর্মি উগ্রপন্থী ধরার নামে ধর্ষণ করে  ভ্যাজিনাতে গুলি করে.....। ভারতবর্ষ আজ ধর্ষকদের চারনভূমি। মেয়েটি স্কুলে/অফিসে/বাজারে/ যাবে - সে আর কিচ্ছুর ভয় পাচ্ছে না, ভয় পাচ্ছে ধর্ষণের। চাষী বউ মাঠে যাবে, সে আর কিচ্ছুর ভয় পাচ্ছে না, পাচ্ছে ধর্ষণের। আশাকর্মী মেয়েটি রাতে গর্ভবতী রোগীনির বাড়ি যাবে, সে আর কিচ্ছুর ভয় পাচ্ছে না, ভয় পাচ্ছে ধর্ষণের। সুজান গ্রিফিন বলেছিলেন " আমি কখনোই ধর্ষণের ভয় থেকে মুক্ত থাকতে পারিনি।" আজকের ভারতবর্ষের প্রতিটা মেয়ে সুজান গ্রিফিন। 

ভারতীয় সমাজে নারী ধর্ষিত হয়েও দোষী। তার মাথা থেকে পা অব্দি প্রত্যেকটা অঙ্গের, তার পরিধান করা পোশাকের, তার চরিত্রের চলে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সে কেন ছোটো জামা পরেছে, সে কেন বুক দেখিয়ে হেঁটেছে, সে কেন এত রাতে বাইরে বেরিয়েছে, সে কেন ছেলে বন্ধুর সাথে বেড়াতে গেছে...........!! ভদ্রলোকেরা এবং ভদ্রমহিলারা উসখুস করে উঠবেন। মেয়েটি নিশ্চয় খারাপ। স্বভাব চরিত্র খারাপ। অসতী। খুব অসতী মেয়ে। ধর্ষণ তো হবেই। এখানে বলে রাখা ভালো, পাশ্চাত্য দেশেও ধর্ষণ হয়, ধরা পড়লে শাস্তিও হয়। কিন্তু সেখানে ধর্ষিতাকে কেউ পোষাক নিয়ে প্রশ্ন করে না, তার চরিত্রের চুলচেরা বিশ্লেষন করে না। এবং হ্যাঁ এটাই পাশ্চাত্যের সাথে ভারতবর্ষের তফাত। 

শুধু সমাজ ও তো নয়। আমাদের আইনি ব্যবস্থাও একই রকম। নারী শুধু ধর্ষিত হলেই চলবে না,তার শরীরে থাকতে হবে মারাত্বক আঘাতের চিহ্ন। তার যোনী থাকতে হবে ক্ষতবিক্ষত। আঘাতের চিহ্ন যত গভীর হবে ততো ভালো। বিচার ব্যবস্থা জানতে চাইবে মেয়েটির কাছে, সে কি একটুও সুখ পেয়েছে? তাহলে চলবে না। এখানে মনে করিয়ে দিতে চাই, এই কদিন আগেও একটা মেয়ে ধর্ষিত হয়েছে কি না তার জন্য হতো "টু-ফিঙ্গার টেস্ট"। মানে ডাক্তারবাবু হাতের দুই আঙ্গুল মেয়েটির যোনীতে প্রবেশ করিয়ে বুঝতে চাইতেন মেয়েটি আদৌ ধর্ষিত হয়েছে কিনা!! অনেক আন্দোলনের পর এই অমানবিক টেস্ট সিস্টেম বাতিল করানো হয়েছে। আদালত কক্ষে বারবার তার কাছে জানতে চাওয়া হবে, তার সঙ্গমের অভিজ্ঞতা আছে কি না! থাকলে সেটা কেমন? সে এর আগে কার কার সাথে সঙ্গম করেছে? সঙ্গমে সে সুখ পায় কি না? উকিলবাবু বারবার জোর দিয়ে জানতে চাইবেন, ধর্ষণ কখন হয়েছে? কিভাবে করেছে? ওড়নাটা কিভাবে খুলেছে? ব্রা টা খুলেছে নাকি ছিঁড়েছে? কতক্ষণ করেছে? মেয়েটি দু-পা চেপে ধরেছিলো নাকি ধরেনি? বিরতিহীন লাগামহীন প্রশ্ন চলতেই থাকে। এবং আদালত কক্ষে মেয়েটি পুণরায় ধর্ষিত হয়। আরেকটা মজার কথা হলো, আমাদের বিচারব্যবস্থা বৈবাহিক ধর্ষণকে স্বীকৃতিই দেয় না! বৈবাহিক ধর্ষণে আমাদের দেশ পৃথিবীর মধ্যে এগিয়ে, কিন্তু সেই বৃহত্তম গণতান্ত্রিক  দেশের আইনেই, শুধু বৈবাহিক ধর্ষণের কোনো নির্দিষ্ট আইন নাই!! 

কদিন আগে কয়েকজন নারী সহকর্মীর সাথে ধর্ষন রোধে পারিবারিক ভূমিকা কি হতে পারে সেটা নিয়ে কথা বলছিলাম। বলছিলাম "প্রতিটা ঘরে ঘরে যদি বাবা-মা'রা নিজের সন্তানদের শেখান পোষাকের সঙ্গে চরিত্রের কোনো সম্পর্ক নেই, মানুষকে পোষাক দিয়ে বিচার না করে বরং তার চিন্তা,মেধা,মনন দিয়ে বিচার করা উচিত। কেউ ছোটো পোষাক পরলেই তার সাথে খারাপ আচরন করার অধিকার কারুর নেই। তাকে যদি শেখানো হয়, কারুর (নারী হোক বা পুরুষ) ইচ্ছের বিরুদ্ধে, মতের বিরুদ্ধে তাকে ছোঁয়া অন্যায়, অপরাধ, প্রাপ্তবয়স্ক হলে তাদের যদি শেখানো হয় কারো অধিকার নেই কাউকে ধর্ষণ করবার। এবং স্ত্রী বা প্রেমিকার সাথেও যদি তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়, সেটাও ধর্ষণ।" - তারা শুনে বলেছিলো, তোমার এই কথাগুলো বেশীরভাগ মেয়েরাই বুঝতে চাইবে না! 

এটাই তো আক্ষেপ আমার। সমাজের বেশীরভাগ নারীর মধ্যেই ঘাপটি গেড়ে বসে পুরুষতান্ত্রিকতা। উচ্চশিক্ষিত প্রতিষ্ঠিত নারীদের মধ্যে আরো বেশী বেশী করে আছে। তারা বুঝতেই চায় না বা পারে না, স্বামীরাও যে ধর্ষণ করতে পারে। ইচ্ছের বিরুদ্ধে বিছানায় টেনে নিয়ে যাওয়াও যে ধর্ষণ, সেটা উচ্চশিক্ষিত নারীরাও বুঝতে পারে না। পিরিয়ড চলাকালীনও শুধু স্বামীর ইচ্ছের কাছে নতি স্বীকার করে দাঁতে দাঁত চেপে সঙ্গমে সায় দিয়ে যাওয়াও যে ধর্ষণ, সেটা তারা বুঝে না। ক্ষেত্রবিশেষে বুঝলেও মানতে চায় না। এইবুঝি সুখের সংসারের ঠুনকো দেয়াল ভেঙ্গে পড়লো, সেই ভয়ে! 

অনেক সময় আশ্চর্য হই, আমরা হিন্দু বুঝি, মুসলমান বুঝি, রাজনীতি বুঝি, সায়েন্স বুঝি, শিল্প বুঝি, আইসিস বুঝি, জেহাদী বুঝি, মহাকাশ পৃথিবী গ্রহ নক্ষত্র চাঁদ তারা সূর্য টেকনোলজি, সাহিত্য - সব বুঝি। শুধু বুঝি না নারীর পূর্ণাঙ্গ মানুষের অধিকার!! জ্বীন, ভূত, ভগবান, আল্লা, ঠাকুর, জেসাস, গুরু, সন্ন্যাসী, পীর - সবেতে বিশ্বাস করি আমরা। শুধু বিশ্বাস করি না নারীও মানুষ এবং মানুষ হিসেবে এই পৃথিবীতে তার সমঅধিকার! নারীর মানুষ হিসেবে প্রাপ্য অধিকার/সম্মানের ক্ষেত্রে আমরা চূড়ান্ত নীরবতা পালন করে চলি!! 

-"হে ভারত, ভুলিও না তোমার নারীজাতির আদর্শ সীতা, সাবিত্রী, দয়মন্তী"- আর আমিও বলতে চাই এই আদর্শের ষোলো আনাই হলো নারীকে নির্বোধ, মূক পশু করে রাখার আদর্শ। তাই এটা ভুললে চলবে না। কারন এই কথাটা ভুলে গেলে নারীর পরাধীনতার দীর্ঘ ইতিহাসকে ভুলে থাকা হবে!!

বৃহস্পতিবার, ১০ মে, ২০১৮


এক বিপদজনক প্রেমের থিওরী..
___________________________

এরকম এক অস্থির ঘটনাবহুল সময়ে দাঁড়িয়ে প্রেম নিয়ে লিখতে গিয়ে এক অদ্ভুত রকমের অপরাধবোধে ভুগছি। কিন্তু যেহেতু সকাল থেকে নীল সাদা আকাশ ঢেকে আছে কালো মেঘে; কখনো ঝিরিঝিরি ছন্দে আবার কখনো অঝোর ধারায় নামছে বৃষ্টি। আর বাইরে বৃষ্টি মানে তো বুকের ভেতরেও ছড়িয়ে পড়ে তা। আর বুক মানে তো একটা ছোট্ট গীটার - যেখানে বৃষ্টির ফোঁটা পড়লেই টুংটাং শব্দ বেজে ওঠে। তাই এই অস্থির হলুদ সময়ে অনেকগুলো দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে সেই নিষিদ্ধ ইশারা কোনোভাবেই উপেক্ষা করতে পারছি না। মাথা বলছে, "ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য" আর ওদিকে মন বলছে "হারাই হারাই সদা ভয় হয়,হারাইয়া ফেলি চকিতে"। এই টানাপোড়েনে মনের জয় নিশ্চিত, কারন আমি নিজেকে চিনি।

প্রেম, পৃথিবীর সবচাইতেবিশুদ্ধ আবেগ আমার কাছে। বিশুদ্ধতম অনুভূতি। বিশ্বসংসার তুচ্ছ হয় যে প্রেমের কাছে, তার চেয়ে সুন্দর, তার চেয়ে নিষ্পাপ আমার কাছে আর কিচ্ছু নেই।

কবিতা ছাড়া প্রেমকে সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করতে আমি পারিনা। এবং মুহুর্তেই হেলাল হাফিজের তিনটে লাইন ঘুরঘুর করে মাথায় এল -

"কবিতা তো কেঁদে উঠে যে কোনো অসুখে
নষ্ট সময় এলে উঠোনে দাঁড়িয়ে বলে
পথিক এ পথে নয় ভালোবাসা ঐ পথে গেছে।"

আমার কাছে প্রেম একটা টান। একটা মায়া। যদি কারো জন্যে বুকের ভেতরে টান বোধ করি, বুঝতে পারি সেটা প্রেম। প্রেমই।  সেদিন এক বন্ধুর সাথে ফোনে কথা হচ্ছিল। কথায় কথায় সে বললো "কি সবসময় কাজ আর গম্ভীর গম্ভীর কথা বলিস! তুমুলভাবে একটা প্রেম কর তো এইবারে!" শুনে খুব হেঁসেছিলাম। তাকে বলা হয়নি, আমি তুমুলভাবে প্রেমেই বাঁচি। যে বন্ধু রাতজেগে ফোনে শুধু আমার নতুন লেখার থীম আর গল্প শুনে যায়, এবং ভোররাতে হাই তুলতে তুলতে বলে, "এই শোন, ঘুমোতে গেলাম, বাই!" তার সাথে এই প্রেম ই তো বেঁধে রেখেছে আমায়। যে বন্ধুর সাথে রাস্তায় দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকে শুধু খিল্লী মেরে উড়িয়ে দেওয়া যায় খয়েরী সময়গুলো অথবা কাকভেজা হয়ে গাড়ীর পিছনের সিটে বসে উল্টোদিকের মহিলার ঘুমের মধ্যে পান চিবুনোর দৃশ্য দেখে অট্টহাসিতে ফেটে পড়া যায় - সেখানেও তো সেই প্রেমেরই যাপন।

যে বন্ধু রাত তিনটের সময় তার নতুন লেখা গান শুনায় আমার কাঁচা ঘুম ভাঙ্গিয়ে, অথবা যে বন্ধু আমার প্রচন্ড ব্যস্ততার মাঝে হঠাৎ ফোন করে জিজ্ঞেস করে "কি রে, শরীর ঠিক আছে তোর?" অথবা প্রচন্ড রাগ দেখিয়ে বলে "এভাবে চললে আর বেশীদিন জীবিত নেই তুই, মিলিয়ে নিস! আরে বাবা শরীরটাতো আগে!" আর আমি তা হাসিমুখে উড়িয়ে দিলেও মনে মনে তার প্রতি যে টান অনুভব করি- সেই টানই আমার বেঁচে থাকার রসদ।

যে বন্ধুর সাথে নারীবাদ কিংবা বিজেপি নিয়ে তুমুল ঝগড়া করে দুদিন কথা বন্ধ রাখি, আর তিননম্বরদিনে নিজেই ফোন করে কপট রাগ দেখিয়ে বলি, "বলি ব্যাপারটা কি! দুদিন ফোন করলি না যে বড়!?" এবং তারপর উত্তরের তোয়াক্কা না করে এভেঞ্জার কিংবা ব্রাদার ইন আর্মসের গল্পে চলে যেতে পারি - সেই নিরীহ নিপাট সম্পর্কই আমার কাছে প্রেম।

কখনো দেখিনি, হয়তো লোকটি নেই ই, শুনেছি বা পড়েছি কোথাও - তার জন্যেও কম টান, কম মায়া বোধ করিনি। এমন অনেক ঘটেছে আমার জীবনে। কালবেলা পড়ে অনিমেষের জন্যে খুব মনকেমন করতো। অপুর জন্যে হু হু করে উঠতো মন। গতবছর "Logan" সিনেমায় যখন হিউ জ্যাকম্যান মানে ওলভারাইন মারা গেলো, দু-রাত ঘুমোতে পারিনি। এই যে, কে যেন নেই,কী যেন নেই। খালি খালি লাগে। এই অনুভূতিটুকুই তো প্রেম। প্রেম আসলেই এক শূণ্যতা এবং হাহাকারের অনুভূতি। প্রাপ্তিযোগে সেটা আর প্রেম থাকে না। অঞ্জন দত্তের কথায় -

"হঠাৎ চায়ের সুগন্ধে
হঠাৎ কোনো বইয়ের পাতায়
হঠাৎ মনের আনন্দে
আপন মনে কবিতায়
হঠাৎ খুঁজে পাওয়া সুর
চার দেয়ালে বেঁধোনা
ধরে রেখোনা!"

হয়তো সুন্দর জোৎস্না রাত, অথবা শীতের নিশুতিঘন রাতে কুয়াশার চাদর  ভেদ করে আবছা কীর্তনের সুর অসম্ভব মনখারাপ ছড়িয়ে দিচ্ছে আমার সারা ঘরে, আর মনের ভিতর আছড়ে পড়ছে এক একটা হ্যারিকেন - সে মনখারাপটুকুই আমার কাছে প্রেম।

মানুষ প্রেমের পরিণতি ভাবে বিয়ে। আমার বড় অদ্ভুত লাগে! বিয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক কি? প্রেম কি আইন, সমাজ,ধর্ম মেনে হয়? আর বিয়ে হলেই   যে প্রেমের বসবাস থাকবে, এমনটাতো অনিশ্চিত! আসলে প্রেম একটা অবস্থা। এবং অবস্থা কখনো স্থির বা নিদির্ষ্ট হয় না। বরং পরিবর্তনশীল। হয়তো যত্নে বা অযত্নে অবস্থার পরিবর্তন ঘটে, তাই বলে প্রেমকে নিদির্ষ্ট ভাবা ডাহা বোকামী। আবার ও অঞ্জন দত্তের গানে ফিরে আসতে হয় -

"আকাশ হয়ে যাবে ফ্যাকাশে
তবু আমাদের ঘুড়ি
উড়বে মনের আকাশে
অনন্ত ছেলেমানুষি
সেই ছেলেমানুষিটাকে
অন্য নামে ডেকো না
পিছু ডেকো না!"

এই শিমুল তুলোর মতো নিরুদ্দেশ হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে মানুষ কোথায় কার সাথে কখন জড়াবে, তা কি সে নিজেও জানে? সম্ভব কি জানা? একজীবনেই বারবার আসে প্রেম। আসেই। আর প্রতিটা প্রেমই তার নিজের মতো করে আসে, নিজের মতো করে ছাপ রেখে যায়।

আমার প্রতিটি সম্পর্কই প্রেম। হোক সে বইয়ের কোনো চরিত্র, হোক সে রাস্তায় দেখা কোনো অজানা, অচেনা কেউ, অথবা আমার খুব কাছের বন্ধু। প্রেম আছে, আমি আছি। প্রেম নেই আমি নেই, কিচ্ছু নেই। কোথাও নেই।

"তবুও আমার জন্মকবজ, ভালোবাসাকে ভালোবেসেছি
আমার কোনো ভয় হয় না,
আমার ভালোবাসার কোনো জন্ম হয় না, মৃত্যু হয় না।

#সুমনা চৌধুরী
11-05-2018