এই ব্লগটি সন্ধান করুন

সোমবার, ৫ জুন, ২০১৭


দেশ দেশ খেলা!






আজ দেশপ্রেম দিবস। কারন আজ ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ। প্রতিবার ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচের সময়, আমরা দেশপ্রেমের অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে থাকি। 

বন্ধুরা মিলে খেলা দেখার সময়, পাশের মুসলিম বন্ধুটিকে শুনিয়ে, আরো জোরে জোরে বলে উঠবে, 'জিতেগা ভাই জিতেগা, হিন্দুস্তান জিতেগা' । তারা ধরেই নেবে পাশের বন্ধুটি যেহেতু মুসলিম, তাই সে পাকিস্তানের সাপোর্টার। ভারতের প্রতিটি সিক্সে অথবা পাকিস্তানিদের প্রতিটি আউটে বোমা ফাটানো হবে মুসলিম এলাকা দেখে। যেহেতু মুসলিম মানেই পাকিস্তানের সাপোর্টার। আজ মুসলিম প্লেয়াররা খারাপ খেললে তাদের দেশপ্রেম প্রশ্নবিদ্ধ হবে। অথচ, ইংল্যান্ড, অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যখন খেলা হয়, তখন কেউ এইরকম দেশপ্রেম দেখাতে আসে না!! 

এই প্রসঙ্গে আমার এক ছাত্রের কথা মনে পড়লো। কদিন আগে কমন রুমে তার সাথে কথা বলছি। ছেলেটির নাম ওয়াহাব। কথা প্রসঙ্গে উঠলো ক্রিকেট ম্যাচের কথা। ছাত্রটি বললো, ম্যাম জানেন আমি পাকিস্তানের সাপোর্টার। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কেন তোমার পাকিস্তানকে ভালো লাগে??  ও বললো, না ম্যাম, আমার পাকিস্তানকে ভালো লাগে না, তবু শুধু ক্রিকেট খেলার সময় আমি পাকিস্তানের সাপোর্টার হয়ে যাই। আমার আরো অবাক হওয়ার পালা! তারপর বললো, ম্যাম, আমি ছোটো থেকেই শচীনের খুব বড়ো ফ্যান। আগে খেলার সময় আমি শচীনের জার্সি পরে খেলা দেখতাম। কিন্তু আমার বন্ধুরা পাকিস্তান হারলে আমাকে ক্ষেপাত, বলতো, দ্যাখ তোর দেশ হেরেছে! পাকিস্তান সিক্স মারলে আমায় বাজে ভাষায় গালি দিত। আমি যত ওদের বলতাম আমি ইন্ডিয়ার সাপোর্টার, ওরা তত ক্ষেপাত আমায়। এরপর আমি ভাবলাম, আমি পাকিস্তানের সাপোর্টার নই, তবু ওরা আমায় বলে আমি পাকিস্তানের সাপোর্টার! তাহলে এবার থেকে আমি পাকিস্তানকেই সাপোর্ট করবো ক্রিকেটে। আর এরকম হতে হতে এখন ম্যাম আমি পাকিস্তানকে সাপোর্ট করি ক্রিকেটে!!

আমি ওকে বলেছিলাম একটা কথা সবসময় মনে রেখ, বেশীরভাগ মানুষ তোমার ভিতরে ঘৃণা ছড়িয়ে দিতে চাইবে। কিন্তু তুমি সেই ফাঁদে পা দিয়ো না। বরং তুমি যেটা বিশ্বাস করো, যেটাকে মন থেকে ভালোবাসো, সেটাই করবে। তুমি মুসলিম, তাই তোমাকে পাকিস্তানের সাপোর্টার হতেই হবে, এইসব কথা যারা বলে তারা তোমার মধ্যে খুব পরিকল্পিত ভাবে ঘৃণা ঢুকিয়ে দিতে চাইছে। তুমি সেটা হতে দিয়ো না। ঘৃণার পরিবর্তে ঘৃণা নয়, ভালোবাসতে শিখো। ভালোবাসা ছড়াও। দেখবে ওরা হেরে যাবে। 

আসলে কি জানেন, ঘৃণা খুব ছোট্ট শব্দ, কিন্তু এর পরিধি বিশাল। টাকার কয়েনের মত ঘৃণারও দুদিক থাকে। একটা ছোটো ছেলে বা মেয়েকে এইরকম ঘৃণার আবহে বড় করে তোলা হচ্ছে। আর তারপর আমরা আশা করছি আমাদের ছেলে মেয়েরা সহিষ্ণু হবে!!? 








কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন