এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বুধবার, ২৫ জুলাই, ২০১৮

আকবর, জুনাইদ, আখলাকদের বাড়ী ফেরা হয় না..
_______________________________________________

আকবর খান, পেশায় দুধ ব্যবসায়ী। দুধ বিক্রি করে ষাট হাজার টাকা জমিয়ে হাটে গেছিলেন আরো দুটো বকনা কিনতে। আরেকটু স্বাচ্ছল্য আসবে সংসারে, বউকে কাঁকন গড়ে দেবেন। কিন্তু সংখ্যাগুরুর দেশে সংখ্যালঘুদের স্বপ্ন দেখা যে চুড়ান্ত পাপ একথা জানতেন না আকবর। তাকে পিটিয়ে পিটিয়ে মারা হচ্ছিল। মানুষ জড়ো হয়ে দেখছিল গোরক্ষক বাহিনীর সে উন্মত্ততা। বাঁচাতে আসেনি কেউ। রাষ্ট্রযন্ত্র নির্বিকার ভাবে দেখছিল সব। গোঙাচ্ছিলেন আকবর, বাঁচার আর্তি জানাচ্ছিলেন। রাষ্ট্রযন্ত্র ডান্ডাপেটা করে চুপ করিয়ে বুঝিয়েছে সংখ্যালঘুদের চিৎকার করতে নেই। যুগে যুগে, দেশে দেশে, সংখ্যাঘুদের আর্তি এভাবেই ডান্ডা মেরে চুপ করায় রাষ্ট্রযন্ত্র। সংখ্যালঘুর রক্তে যাতে তাদের সরকারী গাড়ি নোংরা না হয়ে যায়, তারজন্যে গাড়িতে তোলার আগে ভালোভাবে ধোয়া হয় আকবরকে। রাষ্ট্রের পেয়াদারা চা খায়, অপেক্ষা করে, সময় কাটায়। ওদিকে গাড়িতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে একজন মানুষ, যাকে কিনা রাষ্ট্র, সংখ্যাগুরুর দেশ, ঠিক 'মানুষ' বলে মনে করে না। সবমিলিয়ে তিনঘন্টা সময় কাটিয়ে যখন রাষ্ট্রের পুলিশ পেয়াদারা হাসপাতালে পৌছোয়, ততক্ষণে আকবর মৃত। না আকবর নন শুধু, ততক্ষণে সংবিধান মৃত, দেশ মৃত, সভ্যতা মৃত।

ঠিক একইভাবে জুনেদ, ওমর, আখলাক, পেহলু খান, আফরাজুল সহ সরকারী হিসেবে মোট  ৪৬ জন সংখ্যালঘু (না সংখ্যালঘু নয় আপনাদের ভাষায় যারা কৃমি কীট, যারা মানুষের মতো দেখতে হলেও ঠিক মানুষ নয়) গোরক্ষক বাহিনী, এন্টি রোমিও স্কোয়াডের হাতে নির্মম ভাবে খুন হয়েছেন ২০১৭ সাল থেকে এখন অব্দি। মারধরের পরিসংখ্যানটা আর নাইবা দিলাম!!

আমাদের মতো কিছু দেশদ্রোহী এতে সরকার আর রাষ্ট্রের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললে, তার জবাব ও বিজেপির বিধায়ক রাজা সিং দিয়েছেন।নিজের গোশালায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন, "গরু বাঁচাতে গিয়ে কোনও দুর্ঘটনা ঘটে গেলে মিডিয়া এমন ভাব করে যেন ভূমিকম্প হয়ে গেছে।" সংঘ নেতা ইন্দ্রেশ কুমার বলেছেন, "গোমাংস খাওয়া ছেড়ে দিন, তাহলেই গণপিটুনি বন্ধ হয়ে যাবে"। সঙ্গে হিতোপদেশ দিয়ে এটাও বলেন, " অবশ্যই গোরক্ষা করা এবং গোবরকে সিমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। তাহলেই অভাব আর গণপিটুনিতে পুর্ণচ্ছেদ পড়বে"।

এসব কথা শুনে আশ্চর্য্য হইনা এখন আর। কারন আমরা দেখেছি এর আগে আফরাজুলের খুনীকে দেবতা জ্ঞানে রথে বসিয়ে রথ টানতে, আমরা দেখেছি সেই খুনীর ব্যাঙ্ক একাউন্টে আমাদেরই সহনাগরিকদের কাড়ি কাড়ি টাকা পাঠাতে। আমরা দেখেছি আলিমউদ্দিনকে যারা পিটিয়ে মেরেছিল তাদের ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করছেন এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। আমরা দেখেছি আখলাকের খুনীদের সম্মান জানাতে সরকারী চাকরিতে নিযুক্ত করা হয়েছে তাদের। আমরা দেখেছি অনেক কিছুই। এখনো দেখে যাচ্ছি। হয়তো নৃশংস খুন হওয়ার আগে অব্দি দেখেই যাবো।

গত তেইশ জুলাই আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত  এক সভায় ছাত্রছাত্রী সহ উপাচার্য্য এবং শিক্ষকদের নৈতিকতার পাঠ দিয়ে গেছেন সুনীল দেওধর। তিনি কে? তিনি আর এস এসের দাপুটে প্রচারক এবং বিজেপির ত্রিপুরা জয়ের অন্যতম কারিগর। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সহ ছাত্রছাত্রীদের সমস্বরে "ভারত মাতাকি জয়" এবং "বন্দে মাতরম" ধ্বনি উচ্চারন করিয়ে তার আঠান্ন মিনিটের ভাষনে  বলেছেন, " দেশমাতার নামে জয়ধ্বনি দিতে কোনো পন্থা অবলম্বনের প্রয়োজন নেই। চিন বা আমেরিকার অনুমতি নেওয়ারও প্রয়োজন নেই। স্বগর্বে দেশমাতাকে শ্রদ্ধা করলে বাড়বে নৈতিক মূল্যবোধ। বাড়বে প্রকৃত মানুষ হওয়ার তাড়না"।

অথচ আমরা দেখেছি জুনেদ থেকে আফরাজুল, আকবর থেকে আখলাক - প্রত্যেককেই "ভারত মাতা কি জয়" "জয় শ্রী রাম" এই স্লোগানগুলো  উচ্চারন করেই নৃশংস ভাবে খুন করা হয়েছে। আমরা দেখেছি নিউজ চ্যানেল এবং ফেইসবুকেই বিভিন্ন ভিডিওতে, সংখ্যালঘু মানুষকে একদল উন্মত্ত ছেলে "ভারত মাতা কি জয়" বলানোর জন্যে বেঁধে রেখে মারধর করছে! ভিখিরি বয়স্ক দম্পতিকেও রেহাই দেয় নি তারা। আমরা দেখেছি রামনবমীর অস্ত্র মিছিলে "ভারত মাতা কি জয়" স্লোগানের তান্ডব। তাহলে "ভারতমাতার জয়" স্লোগানে এই নৃশংস নৈতিকতার পাঠ ই কি দিয়ে গেলেন সুনীল দেওধর? তিনি কি ছাত্রছাত্রীগুলোকে শিখিয়ে গেলেন এইভাবেই স্বগর্বে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে দেশ থেকে বিধর্মী মেরে, তাড়িয়ে স্বপ্নের "হিন্দুরাষ্ট্র" তৈরী কর?? প্রকৃত মানুষ কি তবেই হবে তারা? প্রশ্ন জাগে। আতংকিত হই মানুষ গড়ার কারখানাগুলোতেও এদের থাবা বসানো দেখে!

 সারা দেশ জুড়ে এক শ্রেণির বিকৃত উন্মাদ, মানুষ নামধারী কিছু জানোয়ার, মানুষ নিধন যজ্ঞে মেতেছে বিভিন্ন রূপে, বিভিন্ন চেহারায়। কোথাও গোরক্ষার নামে, কোথাও হিন্দুত্ব রক্ষার নামে। শুধুমাত্র মুসলিম হলেই পিটিয়ে মারা যায়? দলিত হলেই পিটিয়ে মারা যায়? মুসলিম, দলিত, আদিবাসীরা ভারতবর্ষ নামক রাষ্ট্রটির  নাগরিক নন? তাদের সুরক্ষা দেওয়ার দায় নেই রাষ্ট্রের? সরকারের কোনো দায় নেই?? দিনের পর দিন নিরীহ মানুষ গোরক্ষার নামে খুন হচ্ছে আর এইসময়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী 200 গরু নিয়ে সদলবলে চলেছেন রোয়ান্ডা। কি বার্তা দিতে চাইছেন তিনি দেশের জনগণকে?? তার মন্ত্রীরা কি বার্তা দিচ্ছে?? তাদের এই বার্তাগুলোই কি জাতি-হত্যাকে প্রশ্রয় জোগাচ্ছে না দিনের পর দিন?? গরু রক্ষার নামে রাষ্ট্রের নাগরিকদের খুন হতে হবে, এটা কোন ধরণের ধর্ম রক্ষা?? কোন ধরনের গণতন্ত্র??

যারা গরুকে দেবতুল্য সম্মান দেয়, তাদের ধর্মীয় অনুভুতির প্রতি যেরকম সম্মান প্রদর্শন করা উচিত, ঠিক সেইভাবে অন্য ধর্মের মানুষ, যারা গরুকে দেবতা মনে করেন না, তাদের প্রতিও সম্মান প্রদর্শনের কথা বলা হয়েছে সংবিধানে। তাহলে কোন ভিত্তিতে দেশের সাধারণ নিরীহ নাগরিকদের একের পর এক খুন হতে হচ্ছে??

এই প্রশ্নগুলোই  আমাদের বারবার করে যেতে হবে। প্রতিটা অত্যাচারের, প্রতিটা নৃশংসতার  ছবি যারা রক্ত দিয়ে এঁকে গেছে, জানিয়ে গেছে, সেটা আরো আরো আরো ছড়িয়ে দিতে হবে। চুড়ান্ত চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যেতে হবে  সরকারের প্রত্যেকটা মানুষহত্যাকারী নীতিকে। এই হত্যালীলাকে কিছুতেই "ট্রেন্ড" হয়ে উঠতে দেওয়া যায় না। কিছুতেই না।


#Not_In_My_Name

#Murder_of_Democracy

রবিবার, ৮ জুলাই, ২০১৮

সেই ছোটবেলা থেকে লক্ষ্য করেছি আমাদের দেশ-সমাজ-ব্যবস্থা কেমন যেন ভালো মন্দের একটা মাপকাঠি তৈরী করে দেয়। আমাদের তথাকথিত শিক্ষা ব্যবস্থাও এর ব্যতিক্রম নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলে "ভালো ছাত্র" "খারাপ ছাত্র" গড়ে তোলার প্রক্রিয়া। সেইসব "ভালোছাত্র"দের কাছে প্রত্যাশা থাকে তারা মেধাবী হবে, পড়ুয়া হবে, ভালো রেজাল্ট করবে, ভালো একাডেমিক কেরিয়ার হবে, সবশেষে একটা ভালো ক্যারিয়ারে ঢুকবে। 

মা-বাবা, শিক্ষক, সমাজ, রাষ্ট্র -চাইবে "ভালো ছাত্র"রা সুবোধ হবে, সুশীল হবে। রাজনীতির মতো নোংরা বিষয় তাদের জন্যে নয়। ওসব খারাপ ছাত্রদের জন্য। কোনোক্রমে মাধ্যমিক পাশেদের জন্যে। শিক্ষিত, মেধাবী ছাত্রদের জন্য রাজনীতি করার মতো গর্হিত অপরাধ আর কিচ্ছুটি নেই। খারাপ ছাত্ররা কোনো ইস্যু নিয়ে মিছিল মিটিং করলে তাতে ভালো ছাত্ররা যোগদান করবে না। রীতিমত টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেতে হয় তাদের। তাও মিছিলের অর্ধেক রাস্তা থেকে তারা লুকিয়ে বাড়ী ফিরে যায়। (নিজের চোখে দেখা)। 

রাষ্ট্র, পরিবার, সমাজকে খুশী রাখতে গেলে ভালো ছাত্রদের বিভিন্ন কম্পিটিটিভ পরীক্ষায় বসতে হয়। ভালো ভালো চাকরী ধরতে হয়। এবং এই  ক্রনিক সিস্টেমেটিক ডিসঅর্ডারের মধ্যে দিয়ে এই ছেলে মেয়ে গুলো যেহেতু বেড়ে ওঠে, তাই তারাও মনে প্রাণে বিশ্বাস করে বড় হয়, রাজনীতি বড় নোংরা, ওটা ভালোদের জন্যে নয়। খারাপদের জন্য। ফলত আমার বয়েসী কিংবা আমার পরের প্রজন্মের উচ্চশিক্ষিত ছেলে-মেয়েদের খুব প্রাউডলি বলতে শুনি - রাজনীতিটা বড় নোংরা। ওসবে কোনো ইন্টারেস্ট নেই। ফালতু, বোগাস কনসেপ্ট। তারা কেউ কেউ হয়তো রাজনীতিতে জড়ায়, কিন্তু সেটা অসুস্থ রাজনীতিতে। নেতাদের দালালী করা রাজনীতিতে। উগ্রজাতীয়তাবাদী ফ্যাসিস্ট রাজনীতিতে। সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতিতে। নিজের  মানুষ হিসেবে বেসিক অধিকারগুলো ভুলে থাকার  রাজনীতিতে। মিথ্যের বেসাতি দিয়ে গড়ে তোলা রাজনীতিতে। 

আর এখানেই আসে শিক্ষকের প্রসঙ্গ। একজন শিক্ষক ই হয়তো পারে ছেলে-মেয়েগুলোকে সুস্থ রাজনীতি সম্পর্কে বোঝাতে, জানাতে, উৎসাহিত করতে। কিন্তু এই শিক্ষকরাও তো এই সিস্টেমের প্রোডাক্ট। সুতরাং এইসব উচ্চশিক্ষিত শিক্ষকরাও রাজনীতি সম্পর্কে উপরিক্ত মতবাদে বিশ্বাসী। 

তাদের সাথে কথায় জড়ালে আমার বারবার মনে হয় পৃথিবীর সবথেকে নিকৃষ্ট অশিক্ষিত হচ্ছে তারাই। তাদের শিক্ষা তাদের বুঝতে দেয় না, একজন মানুষের জীবনের প্রত্যেকটা ছোটোখাটো বিষয়ের সাথে রাজনীতি জড়িত। সকালের চা থেকে শুরু করে রাতের ভাত, অটো ভাড়া থেকে শুরু করে ট্রেন ভাড়া, স্কুলের ফিস থেকে শুরু করে চাকরীর মাইনে, ওষুধের দাম থেকে শুরু করে বাইক কেনার পয়সা, রাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া বা না হওয়া থেকে শুরু করে বিদেশে পড়তে যাওয়া - সবকিছু নির্ভর করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের উপর। অথচ এরাই বুক ফুলিয়ে ঘোষনা দেয় রাজনীতি ঘৃণ্য বস্তু। এসবে যেতে নেই। এরা এতটাই মুর্খ, এতটাই বোকা যে, এরা সারাজীবনেও বুঝে উঠতে পারে না, এদের এই রাজনীতি বিমুখতা কিংবা অজ্ঞতা থেকেই জন্ম নেয় দূর্নীতিবাজ দালাল নেতা মন্ত্রী আমলা। এদের এই মুর্খতা থেকেই জন্ম নেয় বেশ্যা, রাষ্ট্রহীন নাগরিক, ডিটেনশন ক্যাম্প, বেকার, উগ্রপন্থী, ডাকাত, ক্রিমিন্যাল, অভাব, অনাহারে মৃত্যু। এরা সারাজীবন ভালো ছাত্র হওয়ার লক্ষ্যে শুধু পড়েই যায়, কিন্তু পড়া শেষে যখন বেকার হাঁটতে হাঁটতে  জুতোর ফিতা ছিঁড়ে তখন বুঝে আসলে খেতে না পেয়ে আত্মহত্যা করা পরিবারটির সাথে তার কোনো তফাৎ নেই, হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়া ছেলেটির সাথেও তার কোনো তফাৎ নেই। পৃথিবীতে একটাই রাজনীতি - বেঁচে থাকার এবং মরে যাওয়ার। তখন সে বুঝতে পারে জে এন ইউ নিয়ে সে যে কানাইয়ার গলা কাটতে চেয়েছিলো সে আসলে তার কথাই  বলেছিলো... আরো অনেক ছেলে মেয়েরা - যাদের সে দেশদ্রোহী তকমায় ভূষিত করে ফেবু ফাটায়, তারা আসলে তার কথাই বলছে!!   

এরা রাজনীতিকে ঘৃণা করি বলে নিজেরা প্রাইভেট কোম্পানীতে উদয়অস্ত চাকরের মতো কাজ করে, এবং কর্মচারীদের স্ট্রাইক কিংবা কৃষক বিক্ষোভকে "প্রতিবাদ ফ্যাশন" বলে আখ্যা দেয়। দৈনিক আট ঘন্টা কাজের ইতিহাস তারা ভুলে যায়, এবং শ্রমিক দিবসকে নেহাৎ এক ছুটির দিন ভেবে বউ/স্বামী ছেলে মেয়ে নিয়ে চিড়িয়াখানা দেখে ছুটি কাটায়। অথচ নিজে যখন কোম্পানীর কাছে লাথ খেয়ে বাস্তবে ফিরে আসে তখন সেই গিয়ে ট্রেড ইউনিয়নের খাতায় নাম লেখায়। তখন বুঝতে পারে দিনশেষে সে নিজেও একজন শ্রমিক। তার সাথে মহারাষ্ট্রের "কৃষক লং মার্চে" খালি পায়ে হাঁটা লোকটার আসলে কোনো তফাৎ নেই। দুজনেরই দাবী এক। তখন হয়তো বুঝার চেষ্ঠা করে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তার প্রত্যেকজন নাগরিকের অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের ব্যবস্থা করা, যাতে রাষ্ট্র ব্যর্থ।  

তারা সারা ফেইসবুক, সারা অফিস, সারা রাস্তা, বাজার হাটে, ক্লাবে শুধু হিন্দু-মুসলমান, লাভজেহাদ, দেশদ্রোহী, কাশ্মীর, উন্নাও করে গলা ফাটায়, নিজের সন্তানকে স্কুলে অন্য ধর্মের ছেলে-মেয়ের টিফিন খেতে মানা করে, সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের গল্পে ভুলে বাজি ফাটায়, নোটবন্দীতে কি কি লাভ হলো তার ফিরিস্তি লিস্টি ধরে শোনায়, অথচ বুঝতে পারে না দিনশেষে একজন গরীব মুসলমান আর একজন গরীব হিন্দুর স্ট্যাটাস আসলে একই। দুজন ই শোষিত। নির্যাতিত। দুজনের ঘরেই বউয়ের অসুখ, সন্তানের বেকারত্ব, মেয়ের বিয়ের বোঝা, টাকার আকাল। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে ঘুমোতে যাওয়ার আগে অব্দি তাদের মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার প্রত্যেকটা অধিকার দুমড়ে মুচড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে।   

আমি এদের মুর্খ বলি। চুড়ান্ত অশিক্ষিত এরা। কেঁচোর মতো অমেরুদন্ডী প্রাণী এরা। দুঃখ হয় এদের জন্যে। করুণা হয়। বেঁচে থাকতে যারা মৃত, যাদের জ্ঞানচক্ষু ফোঁটেনি এখনো, তাদের করুণা ছাড়া কি ই বা করতে পারি? 

তবে হ্যাঁ, এক্সেপশন অবশ্যই আছে। কিছু ছেলে মেয়েকে দেখি ভালোছাত্রের মিথ পায়ের তলায় দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে, ক্যারিয়ারের তোয়াক্কা না করে সিস্টেম পাল্টানোর রাজনীতিতে ঝাপিয়ে পড়তে। মানুষের জন্যে, মানুষের হয়ে কাজ করতে। কিন্তু সেখানেও বৈষম্য আছে অবশ্যই। সমাজ, পরিবার, রাষ্ট্র তাদের বখে যাওয়া , উচ্ছন্নে যাওয়া, দেশদ্রোহী তকমা দেয়। কারন তাদের অপরাধ তারা এই সমাজে, এই ব্যবস্থায় বিশ্বাস হারিয়েছে। তবু এদের জন্যেই আশা জাগে আজোও। এদের জন্যেই স্বপ্ন দেখি - 

"আমাদের ক্ষেতগুলি পরের জিম্মা থেকে নিয়ে আসা হবে
আমাদের ইস্কুল কলেজ কারখানা
পরের জিম্মায় আর রাখতে দেব না।"